চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৫ আগস্ট ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিনব সামাজিক পরীক্ষা

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৫, ২০১৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

social_experimentবিস্ময়কর ডেস্ক: অভিভাবকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে বেখেয়ালে কিংবা ভীড়ের চাপে ছেলে বা মেয়ে শিশু কিংবা পোষ্য প্রাণী সাময়িকভাবে হারানোর ঘটনা ঘটে থাকে। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় অভিভাবক হারিয়ে ফেলা ছেলে বা মেয়ে কিংবা পোষ্য প্রাণীটিকে একাকী দেখতে পেয়ে হৃদয়বান ব্যক্তি সহায়তায় এগিয়ে আসে। এটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে মানুষ কাকে সবচেয়ে বেশি দ্রুত সহায়তা করে থাকে। অর্থাৎ অভিভাবক হারিয়ে ফেলা একাকী ছেলে শিশু, মেয়ে শিশু, পোষ্য কুকুর এবং পোষ্য বিড়ালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতকে সহায়তা পেয়ে থাকে। এর উত্তর জানতে সম্প্রতি অভিনব একটি সামাজিক পরীক্ষা চালিয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল কিছুটা প্রত্যাশিত এবং কিছুটা বেদনাদায়ক। পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৬ বছর বয়সী এক বালক ও এক বালিকা এবং একটি পোষ্য কুকুর ও একটি পোষ্য বেড়ালকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানের ব্যস্তপার্ক হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করানো হয় এবং তাদের নিরাপত্তায় নজর রাখা হয়। এদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি দ্রুত সময়ে মানুষের সাহায্য পায় তা দেখার জন্য গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা সকলেই ছিল নারী। যা হোক, পার্কে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করা অভিভাবকহীন একাকী থাকা ছেলে শিশুটি, মেয়ে শিশুটি, পোষ্য কুকুরটি এবং পোষ্য বিড়ালটি মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সাহায্য কে পেয়েছে, তা এবার জেনে নিন। উদ্ধার নং-১: মেয়ে শিশুটি পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যস্তপার্কে অভিভাবকহীন ছাড়া অসহায় দাড়িয়ে থাকা ৬ বছরের মেয়েটি মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে এক নারীর সাহায্য পায়। ওই নারী এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি খেলার মাঠে তাকিয়ে ছিলাম। এবং একাকী একটি মেয়েকে দাড়িয়ে থাকতে দেখি, কিন্তু তার সঙ্গে কাউকে দেখতে পাইনি। আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি, সে ঠিক আছে কিনা, মেয়েটি জানায়, সে তার মাকে খুঁজে পাচ্ছে না। আমি তখন তাকে বলি, সে তার মার ফোন নম্বর জানে কিনা, তাহলে তার মাকে ফোন করে খবর দিব। এরপর ডেইলি মেইলের কর্মীরা এগিয়ে আসে এবং ওই নারীকে জানায়, এটা আসলে সাজানো একটি ঘটনা, সামাজিক পরীক্ষার অংশ। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। উদ্ধার নং-২: পোষ্য কুকুর পথচারীর দ্রুত দ্বিতীয় সহায়তা পায় পোষ্য কুকুর। চার্লি নামক ওই পোষ্য কুকুরটি মালিকহীন অবস্থায় একা পার্কে ঘোরাফেরা করছিল। ৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় পথচারী এক নারী তার কাছে এগিয়ে আসে এটা দেখতে যে কুকুরটি কারো পোষ্য কিনা। ওই নারী এ প্রসঙ্গে বলেন, কুকুরটি হারিয়ে যাওয়া এবং খুব ভীত লাগছিল। যদি একটি শিশুকে এভাবে দেখতে পেতাম, তাহলে তার ক্ষেত্রে তো একই কাজ করতাম। কারণ আমার মনে মানুষ হিসেবে সকলের প্রতি এটা আমাদের মানবীয় কর্তব্য। উদ্ধার নং-৩: বিড়াল একটি ব্যাগের মধ্যে ভরে পার্কে ফুটপাতের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছিল পোষ্য বিড়ালটি। যাতে বিড়ালটি ছুটোছুটি করে পালিয়ে না যায়, সেজন্য ব্যাগে ভরে রাখা হয়। সাধারণত চলতি পথে ব্যাগের মধ্যে থাকা বিড়াল তার অনবরত তার মিউ মিউ ডাকে দ্রুত পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ায় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার কথা কিন্তু বিড়ালটি সহায়তা পেয়েছে কুকুরের সহায়তার সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় পরে। ১০ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে এক নারী তাকে দেখতে এগিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে ওই নারী পথচারী বলেন, বিড়ালটি একাকী ব্যাগে আটকে পড়ে থাকতে দেখে আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল। তার মানে সর্বশেষ  ৬ বছর বয়সী ছেলে শিশু স্যাম, যে এই সামাজিক পরীক্ষাটির অন্যতম অংশ। কিন্তু সে ৪৫ মিনিট একাকী পার্কে বসে থাকার পরও, কারো উদ্ধার সহায়তা পায়নি। অনেকে হয়তো বলতে পারে যে, ছেলেটি অভিভাবকের বকা খেয়ে একাকী এভাবে রয়েছে ভেবে কেউ তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি কিংবা একসময় আড়িআড়িভাবে রাস্তায় বসে ছিল যা বিভ্রান্তিকর। কিন্তু আসলে স্যাম এক পর্যায়ে কয়েকজনের কাছে সাহায্যও চেয়েছিল, কিন্তু উপেক্ষিত হয়েছে। স্যামের মা মিচেল এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষজন থামেনি এতে আমি আশ্চর্য হইনি। এটা নিউইয়র্ক, মানুষের জীবনযাপন এখানে খুবই ব্যস্ত। সকলেই এখানে তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা ও ফোনালাপের মধ্যে গভীর মগ্ন থাকে, তাই এমনটা হতেই পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।