চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধ নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ ডেস্ক: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে এক শ্রেণির নোট-গাইড প্রকাশনা সংস্থা অবৈধভাবে নোট-গাইড ছাপা এবং বাজারজাত করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আসায় তা প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জনৈক অভিযোগকারী অভিযোগ করেছেন, দেশে বিদ্যমান নোট বই (নিষিদ্ধকরণ আইন) ১৯৮০ (১৯৮০ সালের ১২নং আইন) থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা (অনৈতিক আর্থিক লেন-দেন) নিয়ে এসকল অবৈধ ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন। বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধারদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও অভিযোগে রয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুদক এর ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম আকস্মিকভাবে নীলক্ষেতের হযরত শাহজালাল মার্কেট, বাবুপুরা মার্কেট, বাকুশাহ মার্কেট, ইসলামীয়া মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অনুসন্ধান চালায়। উক্ত টিমে কমিশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ ও সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান ছিলেন।
অনুসন্ধান অভিযানে দুদক টিম দেখতে পান, বাজারের প্রতিটি দোকানে অননুমোদিত নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কোম্পানীর গাইড বই বিক্রি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে ২য় শ্রেণি হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বাজারে প্রাপ্ত গাইড বইয়ের অন্যতম প্রকাশনী সংস্থাসমূহ হলো-পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, নবদূত, জননী, পপি ও জুপিটার। ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বাজারে গাইড বইয়ের প্রকাশনী সমূহ হলো- পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, রয়েল, আদিল, কম্পিউটার, জুপিটার। এছাড়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য গাইড বইয়ের প্রকাশনী হিসেবে বাজারে লেকচার, পাঞ্জেরী, জ্ঞানগৃহ, জুপিটার, পপি, মিজান লাইব্রেরী, কাজল ব্রাদার্স, দি রয়েল সাইন্টেফিক পাবলিকেশন্স এর বই পাওয়া যায়। গাইড বই সমূহ টেষ্ট পেপার, সহায়ক বই, মেইড ইজি বিভিন্ন নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শ্রেণিভিত্তিক গাইড বই এর পাশাপাশি ডিগ্রী, অনার্স ও মাষ্টার্স শ্রেণির বিভিন্ন গাইড বই এবং প্রফেসরস, ওরাকল, এমপিও, থ্রি-ডক্টরস ও সাইফুর’স এর নামের চাকুরীতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন গাইড বাজারে রয়েছে। যদিও দেশে ১৯৮০ সালের নোট বই নিষিদ্ধকরণ আইন বিদ্যমান রয়েছে। এই আইন অনুসারে গাইড ও নোট বই ছাপা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাহী আদেশে নোট বই ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়। দেশে নোট-গাইড নিষিদ্ধের আইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সকল শ্রেণির নোট গাইড প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে দুদক টিম এবং পাশাপাশি এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে যে সকল প্রকাশনা সংস্থা অবৈধ সম্পদ অর্জন করছেন তাদের বিষয়ে প্রাথমিভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।