চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৯, ২০২২ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে বনভূমি উদ্ধারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন তাদের এ নির্দেশনা দেন। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ অধিবেশন হয়।

অধিবেশন শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ। বনভূমি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসকদের অনেক সহযোগিতার প্রয়োজন আছে। সেই বিষয়ে আমরা ওনাদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছি।  পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব‌্যবস্থা নিতে বলেছি। 

প্রভাবশালীদের কারণে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা ইটের পরিবর্তে ব্লক প্রস্তুত করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি স্থাপনায় শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে হবে।  এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমরা যখন শতভাগ ব্লকে যাবো তখন এমনিতেই ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে গিয়ে ডিসিদের কোনো সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না। পুলিশ প্রশাসন তাদের সঙ্গে থাকবে।  ফলে কোনো সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য টিলা কাটা, পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন- এগুলোকে বন্ধ করার জন্য উনাদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া প্রাণী সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যের কথাও তাদের বলেছি। সবক্ষেত্রে ডিসিদের সহযোগিতার প্রয়োজন আছে। তাই আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি, জানান মন্ত্রী। 

বনভূমি রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বনভূমি যাতে কোনো অবৈধ দখলদার দখল করতে না পারে আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।  যারা অবৈধভাবে দখল করে আছে তাদের উচ্ছেদ করতে বলা হয়েছে।

‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ শতাংশ বনভূমি গড়ে তোলা। এসডিজি অর্জনের জন্য ১৬ শতাংশ আচ্ছাদিত বন আমাদের দেখাতে হবে।  ১৬ শতাংশ বনায়নের জন্য আমরা ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি।  বর্তমানে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বন রয়েছে।  সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে আমরা তো ২২ শতাংশের ওপরেই আছি,’ জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ওনাদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছি। কোন জায়গায়, কোন এলাকায়, কোন মৌজায় কতটুকু বনভূমি বেদখল আছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্য ডিসিদের সহযোগিতা আমরা আগেই চেয়েছি। তালিকা ওনাদের কাছে আছে। প্রত্যেক জেলায় আমরা পৌঁছে দিয়েছি। বনভূমি উদ্ধারে তিনি জেলা প্রশাসকদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।