অন্যকে প্রাধান্য দিলে

610

ধর্ম ডেস্ক: সমাজ জীবনে মানুষ অনেক কাজই করে থাকে। মূলত কোনো না কোনো কাজের মধ্য দিয়েই মানুষের সময়গুলো অতিবাহিত হয়। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য ও গুরুত্ব দেয়া, ব্যক্তি বুঝে সম্মান করা অনেক সওয়াবের কাজ। পবিত্র কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর এরা তাদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদেরকে  অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম’ (সূরা হাশর : ৫৯/৯)। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করো না, অন্যের জন্য তা পছন্দ করো না।’ প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,  একজন লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমি অনেক ক্ষুধায় কাতর’। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের সন্ধানে তাঁর স্ত্রীদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা বললেন, ঐ সত্তার কসম- যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমাদের কাছে পানি ছাড়া কোনো খাবার নেই। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে এই লোকটির মেহমানদারি করবে? আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। তখন আনসারি সাহাবি আবু তালহা (রা.) বললেন, আমি করব। এরপর তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে তার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসুলের মেহমানকে সম্মান কর। কোনো খাবার জমা রাখবে না। তার স্ত্রী বললেন, আল্লাহর শপথ শিশুদের জন্য রাখা খাবার ছাড়া আমার কাছে আর কোনো খাবার নেই। তিনি বললেন, এই খাবারই প্রস্তুত করো এবং বাতি জ্বালিয়ে দাও। তোমার সন্তানরা রাতের খাবার খেতে চাইলে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেবে। তিনি খাবার প্রস্তুত করলেন, বাতি জ্বালালেন এবং শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং বাতি ঠিক করার ভান করে তা নিভিয়ে দিলেন। তারা উভয়ে অন্ধকারে খাবার খাওয়ার ভান করলেন। এর মধ্যে মেহমানের খাওয়া হয়ে গেল। তারা দুজন ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটিয়ে দিলেন। আবু তালহা (রা.) সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলে আল্লাহর রাসুল বললেন, গত রাতে মেহমানের সঙ্গে তোমাদের কর্মকা- দেখে আল্লাহ তায়ালা হেসেছেন এবং এই আয়াতটি নাজিল করেছেন, ‘আর এরা তাদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদেরকে  অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম (সূরা হাশর : ৫৯/৯; বুখারি  : ৩৭৯৪)।