চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৮ আগস্ট ২০১৭

অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গৃহবধূ ও কিশোরকে বেধে অর্ধনগ্ন করে নির্যাতন

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৮, ২০১৭ ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দামুড়হুদার চন্ডিপুরে জমিজমা সংক্রান্ত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের : স্থানীয় একটি চক্রের ষড়যন্ত্র

কুড়ুলগাছি প্রতিনিধি: দামুড়হুদা কুড়ুলগাছির চন্ডিপুরে গৃহবধূকে ঘর থেকে বের করে রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে বেধে বেধড়ক মারপিট করেছে স্থানীয় একটি চক্র। এসময় প্রতিবেশী এক কিশোরকে জোরপূর্বক ধরে এনে দুজনকে একই সাথে অর্ধনগ্ন করে মারপিট করে তারা। অভিযোগ তোলা হয় গৃহবধূর সাথে কিশোরের অনৈতিক সম্পর্কের। গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে চন্ডিপুর খামারপাড়ার জহির হোসেনের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী শাইফা খাতুন নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গৃহবধুর স্বামী জহির বাড়িতে না থাকায় আনুমানিক ২টার দিকে প্রতিবেশী ফহিম, তহির, আলমগীর, বাবুসহ বেশ কয়েকজন ওই গৃহবধূর বাড়িতে যায়। এসময় তারা গৃহবধূর সাথে দরকার আছে বলে তাকে বাইরে ডাকে। গৃহবধূ শাইফা খাতুন ঘর থেকে বেরিয়ে আসা মাত্র তাকে রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে বেধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এসময় প্রতিবেশী নুর ইসলামের ছেলে সুজনকে (১৬) জোরপূর্বক ধরে এনে ওই গৃহবধুর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে দুজনকে একই সাথে অর্ধনগ্ন করে বেধড়ক মারপিট করে ফহিম, তহির, আলমগীর, বাবুসহ স্থানীয় কয়েকজন। এদিকে, সুজনের পিতা নুর ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়িতে খবর দেন। ফাড়ির ইনচার্জ এসআই সুব্রত তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত গৃহবধূ ও কিশোরকে উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নেন।
একটি সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই গৃহবধুর বাড়িতে যায় প্রতিবেশী ফহিম, তহির, আলমগীর, বাবুসহ বেশ কয়েকজন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে মানপিট করা হয়। এসময় ষড়যন্ত্রকারী আলমগীরের সাথে প্রতিবেশী কিশোর সুজনের ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব থাকায় তাকে জোরপূর্বক তুলে এনে গৃহবধুর সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়। পরে গৃহবধূ ও কিশোরকে একই সাথে অর্ধনগ্ন করে বেধড়ক পেটাতে থাকে তারা।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে নির্যাতিত গৃহবধু শাইফার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উপরোক্ত ঘটনার বিবরন দেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার গৃহবধুকে চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের নিকট এবং কিশোর সুজনের বিরুদ্ধে গৃহবধুর কোন অভিযোগ না থাকায় তার পিতার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।