চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনলাইন বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সহজলভ্য কেনাকাটার মাধ্যম হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অনলাইন বাণিজ্য তথা ই-কমার্স। বিশেষ করে মহামারী করোনার এই সময়ে অনলাইন বাণিজ্য বেড়েছে কয়েকগুণ। চলমান দুর্যোগে মানুষ যখন বিপর্যস্ত, অনলাইন বাণিজ্য তখন কারো কারো জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক বেকার যুবক তাদের জমানো স্বল্প পুঁজি নিয়ে নেমেছেন অনলাইন বাণিজ্যে। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎসহ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। এমতাবস্থায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রমবর্ধমান অনলাইন বাণিজ্য। ফলে যারা নতুনভাবে অনলাইন বাণিজ্য শুরু করেছেন বা করতে আগ্রহী তাদের সামনে এখন আশাভঙ্গের পরিস্থিতি। শুরুতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে অস্বাভাবিক সব অফার দেয়। তারা অগ্রিম অর্থ নিলেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, পণ্যের টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে তারা পণ্য পাচ্ছেন না। কারো কারো ক্ষেত্রে সেটি নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অতিক্রম করছে। এতে গ্রাহক প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনলাইন বাণিজ্য তথা ই-কমার্স খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে মূলত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে- ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম, ধামাকা, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, বাজাজ কালেকশন, টুয়েন্টিফোর টিকেট ডটকম, গ্রিনবাংলা, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহকারী বা মার্চেন্টদের দাবি- দিনের পর দিন তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আটকে থাকছে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। কয়েক মাস পর পণ্য স্টকে নেই বলে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহক বা মার্চেন্টদের সাথে কোনো যোগাযোগই রাখছে না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। শুরুর দিকে যেভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত পরবর্তীতে যোগাযোগের সব মাধ্যমই তারা বন্ধ করে দিচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-কমার্স বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুর দিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক বা ভোক্তাকে আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। তারা এক ধরনের ডিসকাউন্ট বা সাইক্লোন অফার চালু করে ২০ শতাংশ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দেয়া হবে মর্মে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। এসব অফারে গ্রাহকরা পণ্য তো পাবেনই উপরন্তু মূল টাকাও ফেরত পাবেন। অবিশ্বাস্য এমন সব লোভনীয় অফার দেখে গ্রাহকরাও হুমড়ি খেয়ে পড়েন অনলাইন বাণিজ্যে। শুরুতে তারা কিছু গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করলেও কয়েক দিনের মাথায় অসংখ্য গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়েও যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ ও মার্চেন্টদের পাওনা পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগের পাহাড় জমতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বিদেশী ই-কমার্স জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি সম্ভাবনাময় অনলাইন বাণিজ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এমতাবস্থায় দ্রুত গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সঙ্কটের সমাধান না হলে অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানও দেশ থেকে ফিরে যাবে।
জানা যায়, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালি যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ও মার্চেন্ট কোম্পানি মিলিয়ে দায়ের পরিমাণ প্রায় ৮৪৩ কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটির মূলধন মাত্র ১ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইভ্যালিকে তৃতীয় দফায় ‘মার্চেন্টদের কাছে দেনার পরিমাণ, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের দায় পরিশোধের সময়বদ্ধ পরিকল্পনা’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে গতকাল ২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জানানোর কথা ছিল। ওই পরিকল্পনা দেখে বলা যাবে প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে এসব দায়দেনা পরিশোধ করবে। ইভ্যালির মতো গ্রাহকের টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ ইঅরেঞ্জের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানটি ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ আছে। গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মামলায় বর্তমানে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ তিনজন জেলে আছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ ধামাকার বিরুদ্ধে। একইভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপসহ অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও।
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে এ নিয়ে জানতে ফোন করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গতকাল বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আগামীকাল শনিবার লাইভে এসে বিগত এক মাসের অগ্রগতি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলব। আমার শুরু থেকেই একটি বিশ্বাস যেহেতু ইভ্যালি একটি শক্তিশালী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, সময় পেলে সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। আমরা বেশ কিছু ক্ষেত্রেই আমাদের পরিকল্পনা মতোই এগিয়েছি। আশা করি সময়ের মধ্যেই সব সফল করতে পারব। আমরা আগামী পাঁচ মাসের মধ্যেই সব অর্ডার ডেলিভারি করব ইনশাআল্লাহ।
জানা গেছে, ই-কমার্সের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ আগস্ট এক নির্দেশনায় বলেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য বা সেবার অগ্রিম মূল্য সরাসরি নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে নিতে পারবে না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করে লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা ছাড়া ই-কমার্স খাতে আস্থার জায়গা ধরে রাখতে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনায় নীতিমালা ও নির্দেশিকা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এসব নির্দেশনা কতটা প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে নজরদারির যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নতুন নির্দেশিকায় প্রধানত পণ্য সরবরাহ ও রিফান্ডের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।