চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অধ্যাপক ছাড়াই ছয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

কোনো শিক্ষকই নেই তিনটিতে, ভর্তি চলতি শিক্ষাবর্ষে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৩, ২০২২ ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বর্তমানে ৫২। এর মধ্যে ৪৬টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, অধ্যাপক ছাড়াই চলছে ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া ১০ জনের নিচে অধ্যাপক রয়েছেন এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪। আর চলতি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এগুলো হচ্ছে- কিশোরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উপাচার্যও। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অনুমোদন দেওয়া হয়নি কোনো জনবল কাঠামোও, অথচ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি!

তথ্যমতে, পাঁচ অনুষদের অধীন পাঁচ বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক আর ২৫ জনই প্রভাষক। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই কোনো সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক পদপর্যাদার শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদককে বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিভিন্ন নতুন পদের জন্য জনবল কাঠামো পাস করাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আসতে চান না। কারণ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অধ্যাপকদের চাহিদা অনুযায়ী হয়তো সুযোগ সুবিধা দিতে পারে না। দক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সংকট বটে, তবে আমরা মানিয়ে নিয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আগামীতে শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হবেন।’ শুধু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের আরও পাঁচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে কোনো শিক্ষক নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ (৪৭তম) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এগুলো হচ্ছে- রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মাত্র একজন অধ্যাপক দিয়ে চলছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দুজন অধ্যাপক রয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ১০ জনের কম অধ্যাপক রয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটিতে। ২০১৫ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই কোনো অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক। ২০১১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও এখনো কোনো অধ্যাপক নেই, নেই সহযোগী অধ্যাপকও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রতিবেদককে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে কোনো বিভাগে সিনিয়র শিক্ষক থাকা উচিত। অধ্যাপক না থাকলে অন্তত সহযোগী বা সহকারী অধ্যাপক নিয়েও কাজ চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় অধ্যাপকরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চান না, এটি সত্য। তবে অধ্যাপকের পদই যদি সৃষ্টি না হয় তবে সেটি তো কাম্য নয়। নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব। পদ সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ইউজিসির কাছে আবেদন করতে হবে। নতুন পদ সৃষ্টি না হলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইউজিসির।’

চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাসেত প্রতিবেদককে বলেন, ‘২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কোনো জনবল কাঠামোর অনুমোদনই দেওয়া হয়নি। জনবল কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে সম্প্রতি অনুমোদন করিয়েছি। এটি অনুমোদন চেয়ে শিগগিরই ইউজিসিতে দাখিল করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগেই কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করি, যেগুলো পরে জনবল কাঠামো অনুযায়ী সামঞ্জস্য করে নেওয়া হবে।’ চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ শিক্ষাবর্ষে তিন বিভাগে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে ৯০ জন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার জনবল কাঠামোর অনুমোদন চেয়ে ইউজিসিতে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই উপাচার্য গতকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না দিয়ে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার এই সময়ের মধ্যে সরকার এসব নিয়োগের অনুমোদন দেবে বলে আশা করছি।’ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ল্যাব-গবেষণাগারসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভাগ অনুমোদন বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেওয়ার পরই শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।’ আর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকরা যেতে চান না। আর প্রয়োজনীয় অধ্যাপকের সংকটও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।’ বিদ্যমান শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে অধ্যাপকের সংকট কাটবে বলে মত দেন তিনি।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।