অতিরিক্ত খাজনা আদায়, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ!

61

দামুড়হুদার ডুগডুগি পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি জেলার বৃহত্তম পশুর হাট। গতকাল সোমবার ছিল সাপ্তাহিক হাটের দিন। সরকারি নির্দেশনায় সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার কথা থাকলেও এ হাটে তা একদমই মানা হয়নি। এছাড়া অন্য সময়ের চেয়ে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নির্ধারিত মূল্যর চেয়ে বেশি হারে খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলায় করোনাভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল ডুগডুগি পশুর হাট। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার লকডাউন শিথিল করলে গতকাল সোমবার আবারও ডুগডুগি পশুর হাট চালু হয়। সরকারি নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার কথা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি হাট মালিকেরা। তবে হাট মালিকদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য। তাতেও কাজ হয়নি। কোনো অবস্থাতেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এতে করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, বিগত দিনে ডুগডুগি পশুর হাটে গরু ও ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের খাজনা সঠিকভাবে নিলেও এবার তার ভিন্ন রুপ নিয়েছে। গরু ও ছাগল প্রতি ২ শ টাকা খাজনা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিগত দিনে প্রতি গরুতে খাজনা দিতে হতো ৪ শ টাকা ও লেখা খরচ ৩০ টাকা ও প্রতি ছাগলের জন্য খাজনা দিতে হতো ২০০ টাকা ও লেখা খরচ দিতে হতো ২০ টাকা। কিন্তু এবার ঈদের হাটে একটু ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রতি গরুতে খাজনা নেওয়া হচ্ছে ৬ শ টাকা, লেখা খরচ ৩০ টাকা। প্রতি ছগলের জন্য খাজনা দিতে হচ্ছে ৩ শ টাকা, লেখা খরচ ২০ টাকা। তবে ক্যাশ ভাউচারের ওপরে ৬ শ টাকা উল্লেখ থাকলেও ৩০ টাকা ধরা ছোয়ার বাইরে।
পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে আসা এক গরু ব্যবসায়ী জানান, ‘এভাবে খাজনা বেশি হলে আমরা ব্যবসা করব কীভাবে। এত টাকা খাটিয়ে যেটা লাভ হবে, সেটা খাজনা দিতে হলে আমাদের আর হাটে আসা হবে না।’
এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হাট মালিক বলেন, অন্য সময়ে হাটগুলিতে নির্ধারিত মূল্যে খাজনা নেওয়া হয়। কিন্তু ঈদে হাটে খরচ বেশি হওয়ায় খাজনা একটু বেশি নিতে হয়।’
এবিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।