অতিথির সঙ্গে উত্তম আচরণ

ধর্ম ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরের বিশাল বিশাল আবাসিক ভবনের গেটে ‘অনুগ্রহ করে অতিথির গাড়ি বাইরে রাখুন’ সাইনবোর্ড দেখা যায়। শহুরের জীবনের বাস্তবতা ও নানা কারণে এমন রীতি চালু হয়েছে। তবে এভাবে অতিথির গাড়ি বাইরে রাখতে বলাটা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে রীতিমতো অপমানজনক বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই যৌক্তিকতা, অপমানবোধ এড়িয়ে বলছেন, এটা হতে পারে না। তাছাড়া অতিথির গাড়ি বাইরে রাখার ফলে জনসাধারণের চলাচলে যেমন অসুবিধা হয়, তেমনি তা হয় যানজটের কারণ। বিষয় যাই হোক, অতিথির গাড়ি বাইরে রাখতে বলা মূলত সামন্তবাদী চিন্তাধারার বহির্প্রকাশ। এর ভেতর দিয়ে সমাজের কিছু মানুষের সামাজিক চরিত্র ও মানবিক দীনতাই কেবল প্রকাশ পায়। আর বিষয়টি এমনো নয় যে, ওই ভবনের মালিক কোথাও অতিথি হন না বা হবেন না। অতিথি হওয়া বা আসা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এটা সমাজবদ্ধ জীবনের অংশবিশেষ। তাই অতিথিদের বিষয়ে এমন নির্দেশনা কাম্য নয়। সব ধর্মে অতিথি বা মেহমানকে ভালোভাবে আপ্যায়ন করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলামে অতিথি আপ্যায়ন সওয়াবের কাজ বলে বিবেচিত। যেসব ভালো গুণের সম্মিলন একজন মানুষকে সামাজিকভাবে ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, অতিথিপরায়ণতা এর অন্যতম। এই গুণটির কারণে শেষ নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) তৎকালীন সবার কাছে সমাদৃত ছিলেন। অতিথিপরায়ণতা, অতিথিকে সম্মান করা একজন মুসলমানের ইমানি কর্তব্য। কেননা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে মেহমানের সম্মানের বিষয়টিকে আল্লাহ এবং পরকালের ওপর ইমান রাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে হাদিসে উল্লেখ করেছেন। অতিথি আপ্যায়ন উত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য এবং উদার মানসিকতার পরিচয় বহন করে। যে ঘরে মেহমানের আগমন বেশি হয়, সে ঘরে আল্লাহর রহমতের বর্ষণ বেশি হয়। কারো এটা ভাবা উচিত নয় যে, মেহমান আসার কারণে রিজিক কমে যায়। রিজিক কমে যায়নি বরং আল্লাহতাআলা তাদের ভাগ্যে আগেই এই রিজিক লিখে রেখেছিলেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘যে ঘরে মেহমানের আগমন নেই; সে ঘরে ফেরেশতা আসে না।’ মেহমানদের সেবা করা আল্লাহতায়ালার আদেশ ও নবীর সুন্নত। ইসলামের ইতিহাস ও হাদিসে মেহমানদারি, খানার দাওয়াত দেয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা ও আপ্যায়নের বিষয়ে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। সবটিতেই অতিথির সম্মান, আরাম-আয়েশের বিষয়ে খেয়াল রাখার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে দেখার অনুরোধ রইল।