চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৮ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দুই লাখ টাকা খোয়ালেন কসাই জিহাদ

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৮, ২০২১ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দর্শনা অফিস:
গরু কিনতে আসার পথে জীবননগর থেকে বাসে উঠে দর্শনা অভিমুখে আসার সময় বাসের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নগদ ২ লাখ টাকা খোয়ালেন কসাই জিহাদ (৪৫)। তিনি জীবননগর উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের রওশন আলীর ছেলে।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর থেকে দর্শনা অভিমুখে শাপলা পরিবহনের একটি বাসে করে গরু কিনতে শিয়ালমারী হাটে আসছিলেন জীবননগরের মাংশ দোকানি কসাই জিহাদ। এসময় গাড়িতে থাকা লোকজন ধারনা করে বলেন, হয়ত গাড়িতে ওঠার আগে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে কিছু খেয়ে গাড়িতে উঠেছেন। এসময় গাড়িতে উঠে তিনি শিয়ালমারী গরুর হাট অতিক্রম করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে গাড়ির সুপারভাইজার ও হেলপার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের চুয়াডাঙ্গা শাপলা কাউন্টারে অজ্ঞান অবস্থায় নামিয়ে দেয়। পরে তাঁর মাথায় পানি দিয়ে কিছুটা সুস্থ করার চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। এসময় পুলিশের খবর দিলে দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরে তাঁর কাছে থাকা মোবাইল থেকে বাড়িতে যোগাযোগ করলে তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা দর্শনা বাসস্ট্যান্ড আসার আগেই দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জিহাদ হোসেনের বড় ভাবী চম্পা খাতুন জানান, কসাই জিহাদ প্রতি বৃহস্পতিবার শিয়ালমারী হাটে গিয়ে গরু কিনে শুক্রবার জীবননগরে মাংশ বিক্রি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও গরু কেনার উদ্দেশে ২ লাখ টাকা নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাসে করে শিয়ালমারী পশুহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমরা মোবাইল ফোনে জানতে পারি তাকে অজ্ঞানপার্টি অচেতন করে গরু কেনার নগদ টাকা নিয়ে গেছে এবং দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পরে আমরা সেখানে গেলে জানতে পারি দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা আজ (গতকাল) দুপুর দেড়টার দিকে জিহাদ নামের যুবককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তাঁদের থেকে জানতে পারি বাসের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি। এ ধরেণের রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীর চেতনা ফিরতে ২৪ ঘণ্টা বা তার থেকেও বেশি সময় লেগে যায়। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি বা প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীদেরকে ওষুধ মেশানো খাদ্র্যদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে। তারপর তাঁদের নিকটে থাকা সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। গণপরিবহনে যাত্রীদের অজ্ঞান করতে একটি বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারীরা। যাকে ট্রাঙ্কুলাইজার বা চেতনানাশক বলা হয়। এই ওষুধ দ্রুত কাজ করে। এতে গভীর ঘুম হয়, আর পরিমাণে কম লাগে। এর বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার আগের বা পরের ঘটনা মানুষ মনে করতে পারে না। তবে যাদের কিডনি বা যকৃতের সমস্যা আছে, তাদের ওপর এই ওষুধ মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধারণা করা হচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা জিহাদকেও খাবারে সঙ্গে মিশিয়ে ট্রাঙ্কুলাইজার জাতীয় ওষুধ খাইয়ে দিয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।