চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৫ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অকাল বন্যা : সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১৫, ২০১৭ ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বর্ষাকাল প্রায় শেষ। এ সময়ে নিয়মিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও বন্যার আশঙ্কা ছিলই না বলতে গেলে। তবে সারাদেশে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং বিশেষ করে উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে প্রধান কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা প্র্রকাশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বশীলমহল। ১৩ আগস্ট দেশের প্রায় সব পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পানিতে ডুবে রেল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সৈয়দপুরে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদের ওপর ঝুলন্ত সেতুও ডুবে গেছে। কোনো কোনো জেলায় প্রাথমিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে ডুবে গেছে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজার-হাজার একরের ফসলের ক্ষেত ও পুকুর-নালা, খাল-বিল ও বাড়িঘর। ঝুঁকিতে রয়েছে নীলফামারী বিমানবন্দরসহ পুরো শহর। একইভাবে বিভিন্ন জেলায় ভারি বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও ঘরের বাইরে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলা যায়। নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বুড়িমারী ও হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পুরো চিত্র উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলা যায়।
সারাদেশ থেকে বন্যার যে সব সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে এর কোনোটাই স্বস্তিকর নয়। দিন যত যাচ্ছে ততই বন্যার ভয়াবহ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। আপাত দৃষ্টিতে বন্যার দৃশ্যমান চিত্রই শেষ কথা নয়। এর রেশ থেকে যাবে বন্যাপরবর্তী সময়েও। স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষা, আশ্রয়সহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সমাপ্তকরণসহ নানা খাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে খুব দ্রুততার সঙ্গে।
প্রাকৃতিক আঘাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা মানুষের নেই। তবে তা মোকাবিলা করার ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এরকম পরিস্থিতির সঙ্গে খুব ভালোভাবেই পরিচিত এবং তারা বারবার তা প্রমাণও করেছে। তবে দায়িত্বশীল সব মহলের সহযোগিতারও বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন যাতে নিরাপদ আশ্রয় পান সে ব্যবস্থা করতে হবে। যতটা সম্ভব মজুতকৃত খাদ্য ও সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় সব সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে বলেই মনে করি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।