নিবিড় আবেগে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ৪৮তম লগ্ন উদ্যাপন

184

চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ঝিনাইদহসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালন : বিন¤্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশমাতৃকার জন্য আত্মদানকারী বীর সন্তানদের বিন¤্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেছে বাঙালি জাতি। গতকাল ২৬ মার্চ মঙ্গলবার স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার এই সময়টি জাতি নিবিড় আবেগের সঙ্গে উদ্যাপন করে। স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকীতে দিনভর নানা আয়োজন আর উৎসবে রঙিন হয়েছিল সারাদেশ। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। দুপুরের পর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। দিনভর সেখানে ঢল ছিল নানা বয়সী মানুষের। সকালে সারাদেশে একযোগে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়গুলোতে হয়েছে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর কুচকাওয়াজ প্রর্দশনী। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন বিষয়টিকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন হয়। ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণিল আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা:


নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্ত্বরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভসূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে শহীদ হাসান চত্ত্বর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর পরই শহীদ হাসান চত্ত্বর শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তর্পক অর্পণ শুরু হয়। প্রথম প্রহরে সকাল ৬টার কিছুক্ষণ পর জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে শহীদ বেদি উন্মুক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীনসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এরপর চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করে জেলা পুলিশ বিভাগ। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার্স) আহসান হাবীব, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা কমান্ডার। জেলা পরিষদের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ ও জেলা পরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম শাহানের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পৌরসভার পক্ষে কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি ও মুন্সী জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পৌর পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাউন্সিলরবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করতে আসেন। সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারীর নেতৃত্বে, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরীফুজ্জামান শরীফের পক্ষে নেতাকর্মীরা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা অফিসের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। জেলা যুবলীগের পক্ষে আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ জাসদের পক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শামসুল আলম। এরপর চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, ব্যাংক-বীমা, স্বায়ত্ব শাষিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ’র ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করে। এদিন সকল সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পুরাতন স্টেডিয়ামে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ:
সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে (পুরাতন) সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত উচ্চারণের মধ্যদিয়ে দিনের ২য় পর্যায়ের কর্মসূচী শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) কে সাথে নিয়ে শান্তির প্রতীক শ্বেতকপোত ও রঙিন বেলুন অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর চারজন পাইলট ক্যাডেটের গার্ড অব অনারের মাধ্যমে এবং প্যারেড কমান্ডার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের আরআই আহাদ আলী চৌকস প্রহরায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
পরে মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এরমধ্যে ছিলো বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়স্কাউটস, গার্লগাইড, শিশুপরিবার, মুকুলফৌজ ও হলদে পাখির দল, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল এবং সংগঠন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক স্টেডিয়ামে আগত ও জেলার সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখি, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রাণবন্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো নিপীড়িত-নির্যাতিত জর্জরিত মানুষের এ দেশটি যেন ¯েœহ-প্রেম প্রীতির আবহে পূর্ণ হয়ে সুস্থ মানবতার আবাসভূমি হয়ে উঠতে পারে এবং সেই পরিবেশে বেড়ে ওঠে নতুন প্রজন্ম যেন পরিপূর্ণতার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বিশ্বময় বিশ্বমানবতার জয়গানে মুখর হয়ে উঠতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ যেন মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়। এছাড়াও ভাষণে বেশ কিছু ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
অনুষ্ঠান মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, প্রফেসর এসএম ই¯্রাফিল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
সরকারি শিশু পরিবারের ক্রীড়া নৈপূণ্য ও সাফল্য:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও শরীর চর্চায় অনন্য চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)। তারা আয়োজনের সকল বিভাগে অংশ নিয়ে কুচকাওয়াজে ক বিভাগে প্রথমস্থান ও খ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান এবং ডিসপ্লে ক ও খ গ্রুপে প্রথমস্থান অধিকার করেছে সরকারি শিশু পরিবার। পরিবারের পক্ষে পুরষ্কার গ্রহণ করেন উপতত্ত্বাবধায়ক রোমানা বিলকিস।
জেলা শিশু একাডেমিতে প্রতিযোগিতা:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল ১০টায় জেলা শিশু একাডেমি প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা ফেরদৌসীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ।
প্রীতি ফুটবল ম্যাচ:
বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন বনাম মুক্তিযোদ্ধা একাদশ, প্রাক্তন খেলোয়াড় বনাম বর্তমান খেলোয়াড়, পৌরসভা একাদশ বনাম সাংবাদিকবৃন্দ একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলাগুলো পরিচালনা করেন সাবেক জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন মধু। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়কে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ পর্বের শুরুতে গত ২৪ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন দৌড়ে বিজয়ী ৬ প্রতিযোগীকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গতকাল বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মুক্ত মঞ্চে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা ইউনিট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোপাল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
জেলা আ.লীগের বর্ণাঢ্য র‌্যালি:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। জেলা আ.লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের নেতৃত্বে র‌্যালীটি শহরের শহীদ হাসান চত্ত্বর, কোর্ট মোড়, কলেজ রোড অতিক্রম করে কবরী রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ছেলুন জোয়ার্দ্দারসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এরআগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ৬টার সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলালীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মুুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ:
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টায় পুলিশ লাইন্স মাঠে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে সম্মাননা প্রদান করেন পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার)। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ কলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র কর্মসূচি:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্ত্বর স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শরীফুজ্জামান শরীফের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনিসহ নেতাকর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাহামুদুর হক পল্টু, আবু বক্কর বকুল, পৌর কাউন্সিলর আবুল হোসেন, মহিলা দল নেত্রী ও পৌর কাউন্সিলর শেফালী খাতুন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি খায়রুল ইসলাম, কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা স্বোচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আসাদুল হক বটুল, কুদ্দুস মহলদার, যুবদল নেতা মাহাবুল রহমান, সেলিমুল হাবিব সেলিম, মাবুদ সরকার, বজলুর রহমান, আব্দুস সালাম, তুহিন ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা ও সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণের তাৎপর্য এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে। আলোচনায় জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। তিনি বলেন, ‘৭মার্চ বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ডাক দেন। এদিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ বঙ্গবন্ধুর প্রেরণাদায়ী সেই ভাষণ বাঙালি জাতির কাছে সব সময়ই বিশেষ কিছু।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্থান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয়, তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন। এতে ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি নতুন প্রেরণা খুঁজে পায়। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এটাকে মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনাও বলা হয়। যে দিক নির্দেশনা থেকে বাঙালী জাতির জন্ম, সেই নির্দেশনা আমাদের আজীবন লালন করতে হবে।’ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, সুবেদার মেজর (অবঃ) বীর প্রতীক খোন্দকার সাইদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম। আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত ও প্রশিক্ষাণার্থী শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।
এদিকে, ভিকুইন্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে গতকাল মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুজজামান চৌধুরী, তহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরোজগঞ্জ:
চুুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া অনুষ্ঠান ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি বের হয়। সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ বেবি নার্সিং স্কুল, সরোজগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল, সরোজগঞ্জ সোনামনি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, সরোজগঞ্জ আন নূর ইসলামী একাডেমী স্কুল, নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাম্মদজমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি বের হয়।
বদরগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আলিয়ারপুর আজিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল মোতালেব মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আ.লীগের সদস্য ও কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন টাইগার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম ও বদরগঞ্জ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এএনএম আশিফ। এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম স্বপন। অন্যদিকে, বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের বিদ্যাৎসাহী সদস্য ও কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন টাইগার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রুহুল আমিন। এদিকে, বদরগঞ্জ কামিল মাদরাসায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। এরপর সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ বেদীতে পুস্পার্থ অর্পন ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। এরপর বধ্যভূমিতে পুস্পার্ঘ অর্পন করে ফাতেহা পাঠ করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সকাল ৮টায় উপজেলা চত্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৮টায় পুলিশ, আনছার, সিভিল ডিফেন্স, স্কাউটস, গার্লস গাইড এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি। সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাধীনতা র‌্যালিতে অংশ নেন সকল মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সকল দপ্তরের অফিসারসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এরশাদপুর একাডেমী, মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-ইকরা ক্যাডেট একাডেমী, ব্রাইট মডেল স্কুলসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এরপর উপজেলা মঞ্চে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আব্দুর রশিদ মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুর মাহম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অগ্নিসেনা মইনদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হামিদুল ইসলাম আজম, কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবর রহমান, সহসভাপতি লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মোট ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও খাবার পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন, বেলা সাড়ে ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের তাৎপর্য ও উন্নয়ন অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা সভা। বেলা ১টায় সকল হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বাদ যোহর জাতির শান্তি কামনায় সকল মসজিদে, মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বেলা সাড়ে ৪টার দিকে ফুটবল মাঠে মুক্তিযোদ্ধা বনাম বনিক সমিতি ও সুধীজন বনাম কর্মকর্তাবৃন্দের প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় উপজেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুর মহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অগ্নিসেনা মইনদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী রবিউল হক, প্যানেল মেয়র সদরদ্দিন ভোলা। পৌর কর্মচারী হাফিজুর রহমানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওমর ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী মাষ্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি শমসের মল্লিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ প্রমুখ।
এছাড়াও আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম খান, জেলা সদস্য শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু, সহসভাপতি হামিদুল ইসলাম আজম, সহসভাপতি লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, সহসভাপতি শাহ আলম মন্টু, সাংগাঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, শ্রমিক লীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পরিমল কুমার কালু ঘোস, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক, আওয়ামী লীগ নেতা ইন্দ্রজাৎ দেব শর্মা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান মৃধা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা গোপাল মজুমদার, সিরাজুল ইসলাম, সোনা মিয়া, জহুরুল হক স্বপন, জাহাঙ্গীর হোসেন, ওলি মাহম্মুদ, সরেয়ার আলী, কাজী স্নিগ্ধা হক, সুফিয়া খাতুন, যুবলীগ জেলা কমিটির সদস্য মতিয়ার রহমান ফারুক, সাইফুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান সালমুন আহম্মদ ডন, সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন, কলেজ শাখা সভাপতি আশরাফুল হক, সৈকত খান প্রমুখ।
এছাড়াও হারদী এম এস জোহা ডিগ্রি কলেজে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। কলেজের সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়ামত আলী, মীর ছামছদ্দিন আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম সাগর, পলেটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, নজরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ। প্রভাষক একে এম ফারুকের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হারদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশলেম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক। সভায় হারদীর ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়েছে। অন্যদিকে, কুমারি ইউনিয়ন পরিষদে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ইউপি মেম্বার মাহবুবুল, আব্দুর রশিদ, জমসেদ আলী, দাউদ আলী, নজরুল ইসলাম, তহমিনা খাতুন, জেসমিন খাতুন, ফিরোজা খাতুন, হাসেম আলী, আশরাফুল হক প্রমুখ।
দামুড়হুদা:


দামুড়হুদায় নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৭টায় নাটুদাহ আট শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা আওয়ামী লীগ, দামুড়হুদা মডেল থানা ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সকাল ৮টার পরপরই দামুড়হুদা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর।
তিনি এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অভিবাদন গ্রহন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্যারেড কমান্ডার দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই বশির আল হেলালের সালাম গ্রহন করেন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। পরে দামুড়হুদা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওজোয়ান সংঘ, ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দামুড়হুদা পাইলট গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুল এবং কানন বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা ডিসপ্লে প্রদর্শণ করে।
ডিসপ্লে শেষে প্রধান অতিথি এমপি আলী আজগার টগর বিজয়ীদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি শহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা আব্দুল ওদদু শাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দীন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শামিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব-উল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান ববি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজিজ, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা অডিটরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নাফিস সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতুল্লাহ, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি শহিদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা কমান্ডার আছির উদ্দীন প্রমূখ।
দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দকৃত খাবারের মান যাচাই করেন উপ কমিটি। বিকেলে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতা শেষে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসান বিজয়ীদের মধ্যে পুরুষ্কার বিতরণ করেন। সন্ধ্যায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পিদের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শেষ হয়। সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন সিএ জহিরুল ইসলাম, নাজির ওমর ফারুক ও আইসিটি টেকনিশিয়ান খাইরুল কবির দিনার।
দর্শনা:
সারা দেশের ন্যায় দর্শনায় ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ অর্পন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে দর্শনা কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে গণজমায়েত শেষে সাড়ে ৮টায় দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম লাল পতাকা ও দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলি মুনসুর বাবু ও দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দর্শনার সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্রিত হয়ে এ র‌্যালিতে অংশগ্রহন করে। এর আগে দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান স্বাধীনতা রক্ষার শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে র‌্যালিতে অংশগ্রহন করে আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ দর্শনা পৌর শাখা, দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, দর্শনা পৌরসভা, জাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, দর্শনা প্রেসক্লাব, দর্শনা সরকারি কলেজ, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ট্রেনিং সেন্টার, অনির্বাণ থিয়েটার, ভৈরবী সাংস্কৃতিক সংগঠন, রামনগর মাথাভাঙ্গা যুবসংঘ, সাম্প্রতিক যুব সংঘ, দর্শনা মটর শ্রমিক, দামুড়হুদা উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক, বিসিডিএস দামুড়হুদা, দর্শনা পূর্ণঙ্গ স্থল বন্দর কমিটি, পুরাতন বাজার কমিটি, ফারিয়াসহ দর্শনা পৌর এলাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ র‌্যালিতে স্বতঃফুর্তভাবে অংশগ্রহন করে। র‌্যালিটি পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের নের্তৃত্বে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে দর্শনা কেরুজ বেদীতে সকল সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুস্পার্ঘ অর্পন করেন। এদিকে, কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়, কেরুজ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে সকল সংগঠন র‌্যালি করে কেরুজ শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। সন্ধ্যায় দর্শনার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনে ও অনির্বান থিয়েটার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জীবননগর:
জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালন এবং উপজেলাকে শতভাগ স্কাউটস ঘোষনা কার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার সময় জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জীবননগরে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া, ওসি তদন্ত ফেরদৌস ওয়াহিদ। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুরা ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। প্রদর্শন শেষে উপজেলাকে শতভাগ স্কাউটস ঘোষনা করা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকালে স্টেডিয়াম মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সন্ধ্যায় উপজেলা চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আর বাবুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
আন্দুলবাড়ীয়া:
আন্দুলবাড়ীয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদ, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কাশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলিম মাদ্রাসা, হারদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি, স্বায়ত্ব শাসিত নানা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয়া পতাকা উত্তোলন, প্রভাত ফেরী, বর্ণাঢ্য র‌্যালী, রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, আলোচনা সভা, বাইসাইকেল স্লোরেস, যেমন খুশি তেমন সাজো, নাটক, সঙ্গীত অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, দোয়া মাহফিল ও পুরষ্কার বিতরণ। আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সাহিত্য পরিষদ কার্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটর নেতৃত্ব দেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক নারায়ণ ভৌমিক, সম্পাদিকা ও কবি আশরাফুনন্নাহার শোভা ও সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম মামুন। র‌্যালিটি সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে বের হয়ে আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পৃথক পৃথকভাবে শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন খেলাধুলা শেষে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় নবগঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোলাইমান হোসেন। সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য লাইলা আফরোজাসহ অত্র বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, সুধী, সাংবাদিক ও ছাত্র-ছাত্রী।
উথলী:
নানা আয়োজনে জীবননগর উথলীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উথলী ডিগ্রী কলেজে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উথলী ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষিকাসহ ছাত্র-ছাত্রীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম।
এদিকে, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উথলী বাজার প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান পিল্টু, সদস্য লুৎফর রহমান লুতু, জহিরুল হক, রামচন্দ্র রাজবংশি, লিটন জোয়ার্দ্দারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক ওয়াহিদুল হক স্বপন।
মেহেরপুর:


মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুতে মেহেরপুর সরকারি কলেজ মোড়ে শহীদ স্মৃতি সৌধের বেদিতে পুস্পমাল্যা অর্পন করা হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, সিভিল সার্জন শামিম আরা নাজনিন, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম সোলাইমান আলী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোক্তার হোসেন দেওয়ান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, পুস্পমাল্য অর্পন করেন। পরে জেলা পরিষদ চত্বর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের গণকবরে পৃথকভাবে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
সকাল ৮টায় মেহেরপুর স্টেডিয়ামে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, আনসাার, ভিডিপি, বিএনসিসি, রোভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনীতে অংশ নেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আতাউল গনি প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে তারা শরীর চর্চা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার প্রদান করা হয়। ‘ক’ গ্রুপে কুচকাওয়াজে ১ম জিনিয়াস ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ, ২য় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গার্লস গাইডস, ৩য় একই বিদ্যালয়ের গার্ল ইন স্কাউট, ‘খ’ গ্রুপে ১ম জিনিয়াস ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ, ২য় গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট একাডেমী মেয়ে দল, ৩য় গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট ছেলে দল, শরীর চর্চায় ‘ক’ গ্রুপে ১ম সরকারি শিশু পরিবার, ২য় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গার্ল গাইডস, তৃতীয় এএলএম জিয়াউল হক ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন, ‘খ’ গ্রুপে ১ম জিনিয়াস স্কুল এন্ড কলেজ, ২য় কালেক্টরেট স্কুল ৩য় গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন শামিম আরা নাজনিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইবাদত হোসেন, (রাজস্ব) তৌফিকুর রহমান, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি রাষ্ট্রের পক্ষে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, নবনির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, এলজিইডি, মেহেরপুর সরকারি কলেজ, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউট, জেলা বিএমএ, হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা কৃষক লীগ, জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
অপরদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আতাউল গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইবাদত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিসাব উদ্দীন, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি আব্দুল হালিম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কে এম আতাউল হাকিম লাল মিয়া। সহকারী কমিশনার সুজন দাস গুপ্তের সঞ্চলনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী। এর আগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মেহেরপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসন একাদশ ও পৌরসভা একাদশের মধ্যকার খেলাটি গোল শূন্য ড্র হয়। খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, গোলাম রসুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইবাদত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কে এম আতাউল হাকিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, মেহেরপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে জেলা বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি জেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে শুরু করে মেহেরপুর কলেজ মোড়ে স্মৃতিসৌধের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ অরুন, সহসভাপতি আব্দুর রহমান, আনছারুল হক, ইলিয়াস হোসেন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আমঝুপি:
মেহেরপুর সদর উপজেলা আমঝুপি ইউনিয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার সময় আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, আওয়ামী লীগ নেতা আলফাজ হোসেন, আওলাদ হোসেন, মাহবুবুল হক, ফারুক হোসেন, আনিছুর রহমান, আজাহার হোসেন। আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি বোরহান আহম্মেদ ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম। এদিকে, বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের র‌্যালিসহ ক্রীড়া প্রতিযোগীয় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান, আবুল হাসান, বশির আহমেদ, আসাদুল, হাবিবুর রহমান, ফারাহ হোসেন, আলহাজ হোসেন, শরিফ উদ্দিন, পিটিএ সভাপতি আ. হামিদ, সদস্য আল মামুন প্রমুখ। অন্যদিকে, আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিজয় র‌্যালি ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান শিক্ষক আহম্মদ আলী, সহকারী শিক্ষক ফয়জুল কবির, শরিফ আহমেদ, আনারুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, স্বপন কুমার, থান্দার আতিকুর রহমান, কামরুদ্দোজা পরাগসহ শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। আমঝুপি আলিম মাদরাসা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতার অয়োজন করে। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ শরিফ উদ্দিন, মাহবুব উল হক, সামসুল হক, আল আমিন, শফিকুল ইসলাম, রবিউল উসলাম, আহসানুল হকসহ আরো অনেকে। অপরদিকে, এআরবি কলেজ, আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন সভাপতি আবুল হাসান, আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় সভাপতি মতিয়ার রহামন, গন্ধরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাপতি ওমর ফারুক লিটন, খোকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদবীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয়।
বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাব্বরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি শামিম ফেরদৌস, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম মোমিন, বিদ্যুৎবাহী সদস্য আব্দুস ছাত্তার, নাজিম উদ্দীন, নজরুল ইসলাম, রুহুল, সোহেল রানা, সালাউদ্দীন, সহকারী শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাসুদ পারভেজ, সোহেল রানা, কামাল, মোখলেস, মোস্তাফিজুর, সাথী, নাছিমা প্রমুখ।
মুজিবনগর:


৩১ বার তোপধ্বনি স্মতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদার মুজিবনগরে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গতকাল মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুজিবনগর স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। ৬টা ১৫ মিনিটে শহীদ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুজিবনগর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পন করেন উপজেলা প্রসাশনের ও উপজেলা পরিষদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, মুজিবনগর থানার পক্ষ থেকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দীন বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলুর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ। এছাড়াও ইউপি আওয়ামী লীগ, ইউপি চেয়ারম্যানগণ, ইউপি যুবলীগ, প্রাক্তন সৈনিক সংস্থা, মুজিবনগর স্বাস্থ কমপ্লেক্স, মুজিবনগর শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
পরে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যো দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার ও মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম। পতাকা উত্তোলন শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে সকাল ৮টার সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে মুক্তিযোদ্ধা,পুলিশ, আনসার ও ভিডিপিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহন করে। সাড়ে ১০টার সময় স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ক্রীড়ানুষ্ঠান, শরীর চর্চা ও ডিসপ্লে প্রর্দশন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে মুজিবনগর উপজেলা মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১২টার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভা ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর থানা ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল জলিল। এছাড়াও উপজেলার সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। বাদ যোহর সুবিধামত সময়ে জাতির শান্তি, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় মসজিদে দোয়া এবং মন্দির, গীর্জা প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হয়। দুপুরে উপজেলার সকল এতিমখানা ও হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেল চারটায় সৌখিন ফুটবল খেলা ও পাঁচটায় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণ এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা মাধ্যমে দিনব্যাপী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।
গাংনী:
গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুতে গাংনী উপজেলা শহীদ মিনার পাদদেশে পুস্পার্ঘ অর্পন করা হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ পাল, আওয়ামী লীগের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ খালেক, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মুন্তাজ আলী, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগন, পুস্পমাল্য অর্পন করেন। পুস্পমাল্য অর্পন শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টায় গাংনী ফুটবল মাঠে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, আনসাার, ভিডিপি, রোভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনীতে অংশ নেন। অপরদিকে, গাংনী উপজেলার নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদিতে পুস্পমাল্যা অর্পন করেন।
ঝিনাইদহ:


ঝিনাইদহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে জেলা বিএনপির র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের পায়রা চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের প্রেরণা একাত্ত্বর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে। শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে সহসভাপতি এসএম মশিউর রহমানরে সভাপতিত্বে এক আলোজনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, এ্যাডভোকেট মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, জাহিদুজ্জামান মনা প্রমুখ। এছাড়াও উক্ত আলোচনা সভায় বিএনপির জেলা শাখার ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, মৎসজীবি দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তরা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে স্বসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানান। সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এদিকে, ঝিনাইদহ জেলা যুব মহিলা লীগের আয়োজনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা যুব মহিলা লীগের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের প্রেরণা একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে যুব মহিলা লীগের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও মিষ্টি মুখের আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সালমা ইয়াসমিন, সদস্য বুলবুল, সাদিয়া আক্তার পিত্তি, নাজমুন নাহার, তিশি আফরোজ চায়নাসহ অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, ঝিনাইদহ জেলা প্রেসক্লাবের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের প্রেরণা একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার সম্পাদক আলাউদ্দীন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, সহসভাপতি আব্দুল হাই, সহসাধারণ সম্পাক এম মাহফুজুর রহমান, নির্বাহী সদস্য আজিজুর রহমান সালামসহ প্রেসক্লাবের অনান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের হলিধানীতে সকল বিদ্যালয়ের সম্মিলিতভাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হলিধানী ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে হলিধানী আলিম মাদরাসা, হলিধানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রামচন্দ্রপুর স্কুল এন্ড কলেজ, হলিধানী বালিকা বিদ্যালয়, আব্দুর রশিদ মিয়া প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়সহ ইউনিয়নের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্মেলিতভাবে হলিধানী বালিকা বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসটি পালন করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শনী, দেশত্ববোধক গান, দলীয় নৃত্য প্রদর্শন করা হয়। এ সময় হলিধানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ খালেকের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪নং হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানে আব্দুর রশিদ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য আশরাফুল আলম, হলিধানী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান, রামচন্দ্রপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, হলিধানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম (আশরাফ) প্রমুখ। এছাড়াও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
ডাকবাংলা:
ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়েছে। পতাকা উত্তলন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছরোয়ার, সাবেক শিক্ষক মুনসুর আলী স্যার, সাধুহাটি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সাহেব আলী দোলাল, সাধুহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামসহ ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুর ইসলাম ।
কোটচাঁদপুর:
২৬ মার্চ বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক ও গৌরবের দিন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এ অবিস্মরণীয় দিনে স্বশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে জাতি। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়। দিনের শুরুতে ভোরে স্থানীয় কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাঠ প্রাঙ্গণে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। এরপরে কোটচাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছলিমা আক্তার, কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার তাজুল ইসলাম, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শরিফুন্নেছা মিকি, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা ও পৌর আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং সাংবাদিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৮টায় স্থানীয় সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কুচকাওয়াজ ও মহান স্বাধীনতা দিবসের ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছলিমা আক্তার, কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার তাজুল ইসলাম, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শরিফুন্নেছা মিকি, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী প্রমুখ। সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে ২ দিনব্যাপি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সমাপ্তি হয়। দিবসের সবকয়টি অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা।