৯৫ টাকার ইনজেকশন ১৯০ টাকা!

17

প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
মাত্র ৯৫ টাকার ওষুধ বিক্রি করছে ১৯০ টাকায়। কালীগঞ্জের ওষুধ ব্যবসায়ীরা এমআরপি রেটের অজুহাতে শতভাগ লাভ করায় এক অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন। তাঁদের যাতাকলে পড়ে প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ওইসব ওষুধ কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছেন। তবে, ওষুধ ফার্মেসির মালিকগণ বলছেন, জেলা সমিতির নিয়মেই তাঁরা এমআরপি রেটে বাইরে ওষুধ বিক্রি করছেন। এদিকে, পার্শ্ববর্তী জেলা যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ বিভিন্ন শহরে এমআরপি রেট বাদেও নগদ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কালীগঞ্জে ওষুধ ব্যবসায়ীরা সমিতি আইন করে কোনো ছাড় না দেওয়ায় এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। সর্বশেষ এমন অবস্থা সৃষ্টির পর তা নিরসনে স্থানীয় এমপি ও পৌর মেয়রের নির্দেশনাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। তাই এ নিয়েই বর্তমানে হ য ব র ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা ও ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ছয় মাস যাবৎ কালীগঞ্জের ওষুধ ব্যবসায়ীরা আইন করে এমআরপি বডি রেটে ওষুধ বিক্রি করছেন। গত সোমবার মাহমুদ রিয়াজ নামে একজন ক্রেতা শহরের লিটন ফার্মেসিতে ইনসেপটা কোম্পানির এক্সিফিন ১ গ্রাম আইভি ইনজেকশনটি ১৯০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। ওষুধের দামটি অস্বাভাবিক নেওয়ায় তিনি বিষয়টি জানাতে জনপ্রতিনিধি কালীগঞ্জ পৌর মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফের স্মরণাপন্ন হন। এ সময় মেয়র আশরাফ ওষুধের প্রকৃত মূল্যটি যাচাই-বাছাই করতে ওই কোম্পানির প্রতিনিধি আলমগীর হোসেনের নিকট ফোন করে জানতে পারেন, ইনজেকশনটির ফার্মেসি মূল্য মাত্র ৯৫ টাকা এবং বডি এমআরপি মূল্য লেখা ১৯০ টাকা। তবে ক্রয় এবং বিক্রি মূল্যের এত ফারাকের বিষয়টি মেয়রকে বলতে পারেননি ওই প্রতিনিধি। এরপর মেয়র আশরাফ ওই ওষুধের মূল্যটি আরও যাচাই করতে শহরে পাঠালে ন্যাশনাল মেডিকেল স্টোর, সাহা ফার্মেসি ও নিউ শান্তি মেডিকেল ১৯০ টাকায় বিক্রি করলেও শুধুমাত্র মল্লিক ফার্মেসি ১০৫ টাকা দাম রাখে। পরে পৌর মেয়র ওষুধের দামের এমন ফারাকের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে অবহিত করেন।
পৌর মেয়র আরও জানান, ওষুধের দামের এমন অস্বাভাবিক বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে তিনি ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একবার বৈঠকও করেছেন। সে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মূল্য স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রতি দিলেও পরে তা মানেননি। সর্বশেষ কালীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাতে অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রি করা নিয়ে অভেযোগ করেন বাজারের ব্যাবসায়ী নেতারা। সে সভাতে স্থানীয় এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার ওষুধ সমিতির নেতাদের জনসাধারণের কাছে সহনীয় মূল্য রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু সে অনুরোধও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরোনা গলাকাটা স্টাইলে ওষুধ বিক্রি করে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে।
এদিকে, ওষুধের বাজার মূল্য ব্যাপক ফারাকের বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার জানান, জনগণ ঠকবে এমন কিছু ওষুধ ব্যবসায়ীরা করবে না। সোমবার ওই ওষুধের দামের বিষয়টি নিয়ে রাতেই তাঁরা বৈঠক করেন এবং ক্লিনিক্যাল রেটের ওষুধগুলি স্বাভাবিক দামে বিক্রি করতে সিদ্ধান্ত নিয়ে পৌর মেয়রসহ তাঁদের সব ব্যবসায়ীকে অবহিত করেছেন। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ওষুধ ফার্মেসির মালিকেরা বলেছেস, ১ শ টাকার ওষুধে ১ শ টাকা লাভ করাটা অমানবিক। আর বাইরের শহরে কমে বিক্রি হচ্ছে স্বীকার করলেও এখানে সমিতি নামের যাতাকলে জরিমানার কবলে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা সাংবাদিকদের জানান, এত বেশি লাভে ওষুধ বিক্রির বিষয়টি অমানবিক। তবে, ওষুধের বডি রেটের এমন ফারাকের বিষয়টি নিয়ে ওষুধ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।