৮টি ঘরে ৪০ জনের কষ্টের বসবাস!

50

জীবননগরে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের মানবেতর জীবন যাপন
মিঠুন মাহমুদ:
শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করেন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন। এটা তাঁদের পেশা ও একমাত্র আয়ের উৎস। এ সম্প্রদায়ের লোকজনের জীবনযাপন খুব সাধারণ মানের। জীবননগর পৌর শহরের মাংস বাজারের ছোট এক টুকরা জমিতে ৮টি ঘর তুলে ৪০ জন হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য কোনো রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করে এক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা যেখানে বসবাস করছেন, সেটি মূলত জীবননগর পৌর শহরের একমাত্র মাংস, মাছ ও কাঁচামালের বাজার। এর মধ্যেই তাঁরা সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে বসবাস করছেন।
হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য রাজু বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ জীবননগরে বসবাস করে আসছি। আমরা কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে যায়। কিন্তু সরকারিভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধা আসে, সেগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, সরকার যেন আমাদের মাথা গোঁজার মতো একটা ব্যবস্থা করে দেয়। আমরা এখানে আটটি পরিবার, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে প্রায় ৪০ জন সদস্য খুব কষ্টে বসবাস করছি।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে যে বরাদ্দ আসে, আমরা সবটুকু তাঁদের মধ্যে বিতরণ করে থাকি।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের বেশকিছু ছেলে-মেয়ে স্কুলে লেখাপড়া করছে। এমনকি তারা খেলাধুলায় অনেক ভালো। বর্তমান সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছে, স্কুলে যেসব হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে, তাদেরও উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছোট একটি জায়গায় খুব কষ্টে বসবাস করছেন। আমি সেখানে গিয়েছিলাম, আমরা চেষ্টা করছি, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য। আশা করি, খুব শিগগিরই একটি নির্দিষ্ট স্থানে তাঁদের বসবাস করার ব্যবস্থা করা হবে।’