৪ দিনে নতুন ৭০ জনসহ জেলায় মোট আক্রান্ত ৬৮৮

115

চুয়াডাঙ্গায় ঈদে জমজমাট ফুসকা হাউস-চায়ের দোকানে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ৩০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসে ৫১ জনের রিপোর্ট এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৩০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ ও বাকি ২১ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ। এছাড়া ঈদের গত ৩ দিনে জেলায় আরও ৪০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ঈদের গত ৩ দিন ও গতকালসহ ৪দিনে মোট আক্রান্ত ৭০ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮৮ জনে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত ৩০ জন হলেন- সদর উপজেলার পুরাতন হাসপাতাল পাড়ার ২ জন, বনানীপাড়ার ১ জন, থানা কাউন্সিলপাড়ার ১ জন, হেলথ অ্যাসিটেন্ট ১ জন, সাদেক আলী মল্লিক পাড়ার ১ জন, সাতগাড়িপাড়ার ১ জন, আলুকদিয়ার ১ জন, দৌলাতদিয়াড় এলাকার ১ জন, বলদিয়া গ্রামের ১ জন, মাঝেরপাড়ার ১ জন, আরামপাড়ার ২ জন, হাসপাতাল রোড এলাকার ১ জন, জাফরপুরের ১ ও জেলা নির্বাচন অফিস ২ জনসহ ১৭ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলার মিয়াপাড়ার ১ জন, এফডাব্লিভি ১ জন, হারদী গ্রামের ১ জন, ওসমানপুরের ১, খেঁজুরতলার ২ জন, মুন্সিগঞ্জের ১ জন ও গোপালদিয়া গ্রামের ১ জনসহ ৮ জন এবং দামুড়হুদা উপজেলার পুরাতন বাজার দর্শনার ১ জন, লোকনাথপুর গ্রামের ১ জন, থানাপাড়া দামুড়হুদার ১ জন, হল্ট চাঁদপুরের ১ জন ও কার্পাসডাঙ্গার ১ জনসহ ৫ জন।
গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। সদর উপজেলা থেকে ৩৭টি, আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে ৮টি, দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ৪টি, জীবননগর উপজেলা থেকে ১৯টি নমুনাসহ সংগৃহীত ৬৮টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট সোমবার কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপসহ ৪০টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১৫ জন করোনা শনাক্ত হয়। গত সোমবার নতুন আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে সদরে উপজেলার ১২ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১, দামুড়হুদা উপজেলার ১ জন ও জীবননগর উপজেলার ১ জন। ২ আগস্ট রোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন কোনো রিপোর্ট পায়নি। ওইদিন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব চুয়াডাঙ্গার কোনো নমুনার ফলাফল প্রকাশ করেনি।
১ আগস্ট শনিবার কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপসহ ৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ২৫ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পুলিশ প্রধানসহ ১৭ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলার ৪ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার ৩ জন। অপর দিকে, করোনা মহামারির মধ্যেও করোনা সংক্রমণের ভয় এড়িয়ে ঈদে জেলার ফুসকা হাউস ও চায়ের দোকানে ভিড় জমতে দেখা গেছে। অনেকেই নিজ প্রিয়জনের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা সপরিবারে ঈদের আনন্দ বাড়াতে শহরের বিভিন্ন জনপ্রিয় ফুসকা হাউস ও চায়ের দোকানে ভিড় জমিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, জেলায় নতুন ৩০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় মৃত্যুহার কম থাকলেও ইতোমধ্যে ৬৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩৮ জন। করোনা মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হতে। বাড়ির বাইরে বের হলেই মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। নয়ত করোনা সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৩ হাজার ৫৬৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৩ হাজার ৩০৩টি, পজিটিভ ৬৮৮ জন, নেগেটিভ ২৬১৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩৮ জন ও মৃত্যু ১১ জন।