২৬০ কোটি দর্শক দেখেছে বিশ্বকাপ!

63

খেলাধুলা ডেস্ক:
আর মাত্র এক দিন।
আগামীকাল ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল দিয়ে ঘণ্টা বাজবে বিশ্বকাপের। গেজেটে মন ডুবানো প্রজন্মের কাছে বিশ্বকাপ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল আইসিসি। স্পাইডারক্যাম, ড্রোন ক্যামেরা, জিংবেলসহ অভিনব সব প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মাঠের ক্রিকেট প্রাণবন্ত হয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত আইসিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে পৌঁছে গেছে বিশ্বজুড়ে। আর এসব উদ্যোগের ফল হাতেনাতে পেয়েছে আইসিসি। বিভিন্ন মাধ্যমে দর্শকসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বকাপের আগের সব সংস্করণকে ছাড়িয়ে গেছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। আজ আইসিসি এ সংক্রান্ত এক বিবৃতির মাধ্যমে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এবং সেমিফাইনালে দর্শকসংখ্যার তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেছে। ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়ে বিশ্বে দর্শক আগ্রহে ক্রীড়া জগতের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর মাঝে জায়গা করে নিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। আইসিসির ডিজিটাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপজুড়ে ২৬০ কোটি দর্শক আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ ছাড়া এ বিশ্বকাপে আইসিসির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো ১ কোটি ২০ লাখ নতুন অনুসারী পেয়েছে। গত ৬ সপ্তাহে প্রায় ৩৯ কোটি প্রতিক্রিয়া পেয়েছে আইসিসি। আইসিসির বিশ্বকাপ ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেছেন সাড়ে ৬ কোটির বেশি ব্যবহারকারী, সঙ্গে সাইটটি প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি পেজ ভিউ পেয়েছে। টেলিভিশনের দর্শকেও পূর্বের সংস্করণগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপ। যুক্তরাজ্যে স্কাই স্পোর্টসের লাইভ কাভারেজ এবং চ্যানেল ফোরের হাইলাইটস প্যাকেজ দেখেছে প্রায় ২ কোটি স্বতন্ত্র দর্শক। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টসের অ্যাপ হট স্টারে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনাল একসঙ্গে দেখেছে রেকর্ড আড়াই কোটির বেশি দর্শক। এ ছাড়া স্কাই স্পোর্টসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল দেখেছে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার নতুন দর্শক। এবারের বিশ্বকাপে আইসিসির মূল সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে স্টার স্পোর্টস। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২২০টি দেশে স্টার ছাড়াও ৪৬টি ভিন্ন চ্যানেল বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। এই চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৬৭ কোটি ইউনিক দর্শক টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব উপভোগ করেছে। যুক্তরাজ্যে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের জয়ের মুহূর্তটি স্কাই স্পোর্টসে একসঙ্গে উপভোগ করেছে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ ইউনিক দর্শক। ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় আরও ১ কোটি ৮০ লাখ দর্শক বেড়ে যায়। ভারত-পাকিস্তানের আগুনে লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। ভারতে স্টার স্পোর্টস এবং ডিডি স্পোর্টসের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ দর্শক একই সময়ে ম্যাচটি দেখেছিল, যে সংখ্যাটি বেড়ে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে ১ কোটি ৮০ লাখে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টেলিভিশন দর্শকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। মোট দর্শকসংখ্যায় প্রায় আড়াই শ ভাগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশে বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি ছিল টেলিভিশন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। বাংলাদেশের ৩৩০ রানের পাহাড় টপকাতে যখন প্রোটিয়াদের গলদঘর্ম অবস্থা, তখন টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ দর্শক। এ ছাড়া ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চিরকালীন দ্বৈরথ টিভি পর্দায় দেখেছিলেন ৫ লাখ ৮৭ হাজার দর্শক, যা ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুই দলের ম্যাচের মোট দর্শকসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে সৃষ্ট উন্মাদনার স্মারক এই রেকর্ড পরিমাণ দর্শক, এমনটাই মনে করেন আইসিসির নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী মানু স্বাহানি, ‘বিশ্বকাপ পুরো বিশ্বে দর্শকদের কাছে যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে, তাতে আমরা অভিভূত। টিভি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ দর্শক বিশ্বকাপ উপভোগ করছে। দর্শক রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইসিসির এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই নতুনভাবে দেখাচ্ছে দর্শকসংখ্যার এই রেকর্ড।