১ শ টাকার কাঁঠাল বিক্রি ২০ টাকায়!

87
????????????????

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হলেও বাজার ক্রেতা শূন্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি মধু মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে জেলার কাঁঠালের বাজারগুলো ক্রেতা শূন্য। যার ফলে এ বছর ১ শ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ টাকায়। তারপরেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাষি ও ফড়িয়ারা বাজারে কাঁঠাল এনে প্রতিদিন লোকসান গুনছেন। গত মৌসুমে ২৭৫ হেক্টর জমি কাঁঠালের বাগান থাকলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ২৮৫ হেক্টর হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছর চার হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টনের অধিক কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়েও এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ কাঁঠালের হাট ভালাইপুর, জয়রামপুর, ডুগডুগি, শিয়ালমারী, আন্দুলবাড়ীয়া, জীবননগর, হাসাদাহ, দশমাইলসহ ১৪টি হাট থেকে প্রতিদিন শত কোটি টাকার কাঁঠাল রপ্তানি হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে তা হচ্ছে না এবং কাঁঠালের বাজারে ক্রেতাও আসছে না। ফলে কৃষক ও ফড়িয়ারা পড়েছেন চরম বিপাকে। কৃষক ও ফড়িয়ারা জানান, কাঁঠালের ক্রেতা না থাকায় কৃষকদের গাছে ও ফড়িয়াদের আড়তে কাঁঠাল পচে নষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, করোনার কারণে এ বছর কাঁঠাল চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আড়ৎদাররা জানান, যদিও কাঁঠাল কেনা হচ্ছে। কিন্তু পরিবহনের অভাবে দেশের বড় বড় মোকামগুলোতে কাঁঠাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁঠাল রপ্তানি হয়। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে বরিশাল, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে এ বছর কাঁঠালের মোকামে কাঁঠাল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাজারেও এবার চাহিদা কম হওয়ায় এ জেলার কাঁঠালের চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে, দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল উৎপাদনের ভরা মৌসুমে কৃষক ও ফড়িয়ারা সরকারের কাছে পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।