১১ মাসে পরকীয়া-যৌতুকের বলি ১২ নারী-পুরুষ

48

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে গত ১১ মাসে পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ ও যৌতুকের বলি হয়েছেন ১২ জন নারী ও পুরুষ। বর্তমান ফেসবুক ও প্রযুক্তির কুফলে ঘরে ঘরে বিবাদ কলহ ছড়িয়ে পড়েছে। সন্তান পিতা-মাতার সঙ্গে, স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে সংসারে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় স্বামী ও স্ত্রীদের পরকীয়ার জেরে নিহত হওয়ার ঘটনা যৌতুক বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে পুলিশ বলছে, সমাজে চরম অবক্ষয় শুরু হয়েছে। এটা থেকে বাঁচতে হলে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ডাউটি গ্রামে শিউলী খাতুনকে তাঁর স্বামী হত্যা করেন। হত্যার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যৌতুক। ৪ ফেব্রুয়ারি শৈলকুপার গাবলা গ্রামে লিপা ওরফে সাথিকে হত্যার পর লাশ কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। যৌতুক না দিতে পারায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে তাঁকে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। দাম্পত্য কলহের জের ধরে ২৭ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ শহরে রেবা রানীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেন। ৬ মার্চ একই উপজেলার ঘিঘাটি গ্রামে যৌতুক ও দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী শিউলী খাতুনকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ১৩ মার্চ হরিণাকু-ু উপজেলার কাদিখালী গ্রামে স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দিয়ে খুন হন জয়নুদ্দীন নামে এক কৃষক। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই ছহির উদ্দীনের সঙ্গে স্ত্রী আবেদা খাতুনের দৈহিক সম্পর্ক ছিল। ১৮ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বানয়াবহু গ্রামে সোহেল রানা নামে এক মসজিদের ইমাম ও হাফেজকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ভাষ্য জুলিয়া নামের অন্যের এক স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে খুন হন হাফেজ সোহেল রানা। ২ আগস্ট শৈলকুপার আলমডাঙ্গা গ্রাম থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা গ্রামে আয়েশা খাতুন মিমকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে তাঁর স্বামী এখলাস উদ্দীন তাঁকে হত্যা করেন। প্রেম করে বিয়ে করার কারণে মিমকে বধূ হিসেবে মেনে নেয়নি এখলাসের পরিবার। বাধ্য হয়ে মিমকে হত্যা করেন স্বামী। ১৮ আগস্ট মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহ ও নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রী ফিরোজাকে কুপিয়ে হত্যা করেন আব্দুল কুদ্দুস। ২৮ আগস্ট ঝিনাইদহ এলজিইডির ড্রাইভার হাসানুজ্জামান জগলু স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে যশোরে খুন হন। ১৬ সেপ্টম্বর মহেশপুর উপজেলার খড়েমান্দারতলা গ্রামে পুত্রবধূ আঁখি খাতুনের পরকীয়ায় বাধা দিয়ে খুন হন আজিজ মোল্লা। ৬ নভেম্বর মহেশপুর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে রিতু খাতুনকে হত্যা করেন স্বামী সাগর। পুলিশ জানায়, রিতু ও সাগর প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সাগরের পরিবার রিতু খাতুনকে মেনে নিতে পারেনি। ঘটনার দিন পদ্ম রাজপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে রিতু পিতার বাড়ি ডাকাতিয়া গ্রামে আসেন। ওই দিন থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, এসব খুনের ক্লু, মোটিভ উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজে আজ এসব ঘটছে। পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের সুসম্পর্ক নেই। স্কুল-কলেজে জীবনমুখী নৈতিক শিক্ষা নেই। শিক্ষকদের নৈনিতক অধঃপতন ঘটেছে। তাঁরাও ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও দেখে ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে। মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাঁরা ১৮ বছরের আগেই সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছে।