১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

29

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দশ দফা দাবি না মানলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধন ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগসহ দশ দফা দাবি মানতে আলটিমেটামও দিয়েছেন তারা। আর এই দাবি না মানলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে নামতে যাচ্ছেন। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রাপ্য টাইমস্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ২০২০ সালের ১৪১ নম্বর পত্র প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সমিতির দশ দফা দাবিগুলো হচ্ছেÑ ১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রদানসহ অন্যান্য প্রধান শিক্ষকদের ০৯/০৩/২০১৪ থেকে ১৫/১২/২০১৫ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য টাইমস্কেল প্রদানের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ১৫/১০/২০২০ তারিখের ১৪১ নম্বর পত্রটি জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে টাইমস্কেল প্রদানের ব্যবস্থা করা। ২. (ক) বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দায়িত্বের কথা বিবেচনা করে অষ্টম গ্রেডে উন্নীত করা, (খ) সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টিসহ নবম গ্রেডে বেতনস্কেল নির্ধারণ করা, (গ) স্নাতক/স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রেক্ষিতে সঙ্গত কারণেই সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল বর্তমান বেতনস্কেলের দশম গ্রেডে উন্নীত করা। ৩. চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। ৪. সমন্বিত নিয়োগ বিধিতে শুধুমাত্র সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করে ওই পদ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চপদ পর্যন্ত শর্তহীনভাবে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা। ৫. প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কীয় বিভাগীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। ৬. সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের অবিলম্বে নন-ভোকেশনাল কর্মচারী হিসাবে ঘোষণা করে অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। ৭. অবিলম্বে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যকর করা। ৮. অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক দু’দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা ও দিনে সর্বোচ্চ চারটি পিরিয়ড পাঠদানের ব্যবস্থা করা। ৯. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ড কার্যক্রম গতিশীল করা। ১০. শিক্ষকদের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রশিক্ষণে শুধুমাত্র শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রশিক্ষক নির্বাচন, শিক্ষকদের বিনোদন ভাতার জটিলতা নিরসন, প্রশিক্ষণের পর উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করা।
সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠনের ব্যানারে এসব দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি ওয়েছ আহমেদ চৌধুরী। মূল বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহা-সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সভাপতি মো: জাহিদুর রহমান বিশ্বাস, সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহা-সম্পাদক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুর রহমান, সৈয়দ জাকারিয়া, মঞ্চলাল দে, জাকারিয়া ভূঁইয়া প্রমুখ।