১০ কোটির প্রকল্পে নিশ্চিত হবে সুপেয় পানি

89

নতুন প্রকল্প নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জিপু চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর নাগরিকদের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে দুই-এক দিনের মধ্যেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ১০ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পানি সমস্যার সমাধান হবে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু এ খবর নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি ২০১৬ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে সমাপ্ত, চলমান ও প্রক্রিয়াধীন কাজের বিবরণ তুলে ধরেন উপস্থিত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সামনে।
সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র জিপু চৌধুরী জানান, তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (ওসক্ট) প্রকল্পের আওতায় সুপেয় পানি নিশ্চিতকল্পে ১০ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার ৪১৮ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৫০ মিটার পাইপলাইনের কাজে বরাদ্দ ২ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪২ টাকা, একটি উৎপাদক নলকূপের বরাদ্দ ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, তিনটি পুরোনো নলকূপ পরিবর্তনে বরাদ্দ ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ টাকা, একটি ওভারহেড ট্যাংক (৬৮০ ঘ.মি.) স্থাপনে বরাদ্দ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯১ টাকা, ৬ হাজার ৪০০টি পানির গ্রাহক মিটার স্থাপনে বরাদ্দ ৪ কোটি ৬২ লাখ ৬৫৬ টাকা এবং টুলস বা সরঞ্জাম সরবরাহে বরাদ্দ ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৬ টাকা। এ ছাড়াও বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে উন্নয়নকল্পে প্রয়োজনীয় ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
পৌরসভার সচিব কাজী শরিফুল ইসলামের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে মেয়র বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শহরের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং নাগরিক পরিসেবার উন্নতির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে ‘দ্য স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমাদের স্মার্ট সিটি প্রকল্পভুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শহরের প্রবেশ দ্বারে চারটি তোরন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক পোলে সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, একমুখী চলাচলে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, নবগঙ্গা খাল খনন ও খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, মাথাভাঙ্গা নদীর পাড় বেঁধে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন সড়কের পাশে বাগান তৈরি, বনায়নের জন্য বৃক্ষরোপন ও মনোরম পরিবেশে শিশুপার্ক স্থাপন কার্যক্রম। এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বেশ কয়েকটি কাজ শুরু করা হয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, জাহাঙ্গীর আলম, নাজরিন পারভীন মলি, নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ও সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান কাওছার। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচি, যুগ্ম সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম সনি, সাংবাদিক রফিক রহমান, আরিফুল ইসলাম ডালিম প্রমুখ।