হালাল উপার্জন ইমানের দাবি

81

ধর্ম ডেস্ক:
হালাল উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। একজন মুসলমান হিসেবে হালাল উপার্জনের ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার ইবাদত-বন্দেগির জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত করা যেমন অত্যাবশ্যক, তেমনি হালাল উপার্জন বা রুজি অন্বেষণ করাও ফরজ। পবিত্র কোরানে হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, ‘অতঃপর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তথা জীবিকা অন্বেষণ কর।’ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো কবুল হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল রুজি অন্বেষণ। যার রুজি হালাল নয়, তার যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। ইমানের পর হালাল রুজি উপার্জন করে বৈধভাবে খাওয়া-পরা অন্যতম ফরজ কাজ। হাদিসে আছে ‘হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পরেও আর একটি ফরজ।’ লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে অবৈধ উপার্জনের পথে পা বাড়ানো কোনো মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। জীবন চালাতে যত কষ্টই হোক ন্যায় ও ইনসাফের পথে থাকতে হবে। অনৈতিক কোনো উপার্জন করা যাবে না। ধনসম্পদ আল্লাহর বিশেষ দান। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অঢেল ধনসম্পদ দান করেন। বৈধ উপার্জনের পথে থাকার চেষ্টা থাকলে আল্লাহ তাকে সহযোগিতা করেন। অল্প আয়েই অনেক বরকত দান করেন। বর্তমান সময়ে আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে বৈধ পথে থাকার চেষ্টা করা কঠিন সাধনা। এর জন্য আল্লাহ বিশেষ পুরস্কার দেবেন। রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মুসলিম উম্মাহকে শিখিয়ে গেছেন কীভাবে নীতি-নৈতিকতার পথে থাকতে হয়। তারা ক্ষুধার জ্বালায় পেটে পাথর বেঁধেছেন তবুও অনৈতিক পথে কিছু উপার্জন করেননি। রাসুল (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল রুজি দ্বারা তার পরিবার-পরিজন প্রতিপালনের চেষ্টা করে, সে-ই উত্তম।’ হাদিসে আছে, ‘তোমার রিজিক যেখান থেকে আসে তা তুমি যাচাই করে খাও- এটা কি হালাল না হারাম।’ অবৈধ আয়-রোজগার থেকে শুধু নিজে বাঁচলে হবে না, নিজের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও বাঁচানোর চেষ্টা থাকতে হবে। সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করার চেষ্টা করতে হবে। মুসলমান হিসেবে হালাল উপার্জন ইমানি দাবি। অন্য কেউ অবৈধ উপার্জনের পথে পা বাড়ালে তাকে বিরত রাখাও অন্যতম দায়িত্ব। অবৈধ উপার্জনকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে হাদিসে। আমরা কেউই চাই না আগুন আমাদের পেটে ঢুকে পড়–ক।