হরিণাকুন্ডু’র আম যাচ্ছে ইউরোপে

273

ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের ইতিহাসে এই প্রথম গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আম বিদেশ রপ্তানী শুরু হয়েছে। এ জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমুহের সাথে জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার আম চাষীরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। হরিণাকুন্ডুর আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের এক সোনালী ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ঝিনাইদহ জেলা। এমন সুখবর জানিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসর আরশেদ আলী জানান, কৃষকদের উৎপাদিত আম ৮৫ টাকা কেজি দরে বিদেশীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, চীন থেকে আমদানীকৃত বিশেষ পদ্ধতির ব্যাগ দিয়ে গাছে থাকতেই আম ব্যাগিং করা হয়। সব মিলিয়ে এক কেজি কাঁচা আমের খরচ পড়ে ৫০ টাকা। কিন্তু এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় বিদেশীরা প্রতি কেজি ৮৫ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সুত্র মতে এ বছর হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহায়তায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদনে আগ্রহী চাষীদের তালিকা তৈরী করে তাদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে আম রপ্তানিকারকদের সাথে চাষীদের চুক্তিবদ্ধ করতে সহায়তা করা হয়। চুক্তি মোতাবেক সুন্দর, আকর্ষণীয়, লাবন্যময় স্বাস্থ্যসম্মত কীটনাশক মুক্ত আম উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়। সাধারন পদ্ধতিতে আমের উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদনে ১০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হলেও চূড়ান্ত মূল্য প্রাপ্তিতে কেজি প্রতি অতিরিক্ত ৩৫ টাকা লাভ ঘরে তুলতে পারছে আম চাষীরা। ঝিনাইদহ জেলায় প্রথম আম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছে হরিণাকুন্ডু উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের চাষী শহিদুল ইসলাম বিপ্লব। তার মত আরো কয়েকজন চাষী এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করেছে। এসকল চাষীদের প্রাথমিক সাফল্য দেখে আগামী মৌসূমে অনেক আম বাগানের মালিক ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হরিণাকুন্ডুর ভবানীপুর গ্রামের আম চাষী বদর উদ্দীন মোল্লা জানান, তিনি দুই একর জমিতে আম চাষ করেন। বিদেশে রপ্তানীর লক্ষ্যে আগামী বছর  তিনি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার আরশেদ আলী জানান, এই পদ্ধতিতে আম চাষের কারণে এখানকার কৃষকরা ভবিষ্যতে সোনালী স্বপ্ন দেখছে।