হত্যা-ডাকাতিসহ ৬ মামলার আসামী ছিলো কসবা গ্রামের জমসেদ

176

গাংনীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাতের পরিচয় মিলেছে : দাফন সম্পন্ন

গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। তিনি গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে। তার দুটি সংসারে ৪টি কন্যা সন্তান রয়েছে। পুলিশের দাবি, নিহত জমসেদ আলী ডাকাত সর্দার ছিল। তার বিরুদ্ধে মেহেরপুরের গাংনী থানায় একটি ডাকাতি, একটি অস্ত্র, একটি বিষ্ফোরক, একটি হত্যা মামলা, সদর থানায় একটি ডাকাতি মামলা এবং মুজিবনগর থানাতেও একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে গাংনী উপজেলার আমতৈল মানিকদিয়া গ্রামের মাঠে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, ঘটনাস্থলে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা ১০ রাউন্ড সর্টগানের ও ৪ রাউন্ড চাইনা বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে। পুলিশ ও ডাকাতদের গোলাগুলির এক পর্যায়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ সময় অজ্ঞাত ডাকাত (৪৮) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করতে না পারায় তার লাশ গাংনী থানা চত্বরে রাখা হয়েছিল। গতকাল বুধবার সকালে ধানখোলা ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তৌহিদ হুসাইন মিলু থানায় গিয়ে তার লাশ সনাক্ত করেন। পরে দুপুরে মেহেরপুর মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে তার নিজ গ্রামে জানাযার নামাজ শেষে কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
ধানখোলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তৌহিদ হুসাইন মিলু জানান, নিহত জমসেদ আলী ছয় থেকে সাত বছর গ্রাম ছাড়া। গ্রামে যখন থাকত তখন কৃষি কাজ করত। নিহতের বোন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইসলামপুরের মোমেনা খাতুন আহাজারি করতে করতে বলেন, দেড় বছর যাবৎ জমসেদ আলী তার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ক্ষেত খামারে মুনিষের (দিনমজুর) কাজ করে সংসার চালাত। গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে পাশের গ্রামের একজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর সকালে খবর পাই সে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে।
এ ব্যাপারে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিছুর রহমান জানান, জমসেদ আলী পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রহ ৬টি মামলা রয়েছে। সে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতিসহ সন্ত্রাসাী কর্মকা- পরিচালনা করত বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল।