হক-বাতিল চেনার উপায়

678

ধর্ম ডেস্ক: হক ও বাতিলের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। কোনটা হক আর কোনটা বাতিল এটা নিয়ে অনেক সময় আমরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকি। প্রিয়নবী (সা.) এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন একটি মাত্র বাক্যে। বলেছেন, যখন আমার উম্মতের মাঝে কোনো কিছু নিয়ে মতভেদ দেখা দেবে তখন তোমরা আমার ও আমার সুপথপ্রাপ্ত খলিফাদের পথ (সুন্নাহ) অনুসরণ করবে, এটিই জান্নাতের পথ। এ কথা বলে নবী করিম (সা.) যেন আমাদের হাতে একটি কষ্টিপাথর তুলে দিয়ে গেছেন। যার মাধ্যমে হক-বাতিলের নির্ণয় করা যাবে। কখনো কোনো সমস্যা সামনে এলে অর্থাৎ মতভেদ দেখা দিলে দেখতে হবে কোনটি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত মতো আর কোনটি এর পরিপন্থী। যেটি তার সুন্নাত মোতাবেক হবে সেটিই হক-সত্য, বাকিটি পরিত্যজ্য। হয়তো কোনো সময় কোনো কিছু হুবহু বা সরাসরি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর সঙ্গে মিলে যাবে না। তখন দেখতে হবে সেটি খোলাফায়ে রাশেদিন তথা চার খলিফার সুন্নাহর সঙ্গে মিলে কি না? যেটি তাদের সুন্নাহ অনুযায়ী হবে সেটিই বিশুদ্ধ। সেটি অনুযায়ী আমল করলে সব মতভেদ শেষ হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, বনি ইসরাইলের মধ্যে ৭২টি উপদল হয়েছিল, আর আমার উম্মতে হবে ৭৩টি। একটি ছাড়া সবগুলোই ভ্রান্ত। কে সত্য আর কে মিথ্যা সেটা যাছাইয়ের জন্য রাসুল (সা.) আমাদের একটি সুন্নাতের কষ্টিপাথর দিয়ে গেছেন। রাসুল যা বলেছেন, যা করেছেন, যেভাবে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন সেটাই হলো সুন্নাত। রাসুলের পর তার খলিফাদের কথা, কাজ ও নির্দেশনাও এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের যে কোনো সমস্যায় রাসুল ও পরবর্তী খলিফাদের যুগের দিকে তাকালেই এর সমাধান পেয়ে যাব। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক হয়। প্রথমত এ ধরনের বিতর্ক করাই উচিত না। ইসলামকে বিতর্কের জায়গা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। আর এসব বিতর্কের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ মৌলিক কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক নয়, সামান্য বিষয় নিয়ে চলে এসব বিতর্ক। যা করলে বা ছাড়লে কোনোটাতেই দ্বীনের বিশেষ কোনো ক্ষতি বা লাভ হবে না সেটা নিয়ে বিতর্ক করাই উচিত নয়। বৃহত্তর জায়গাটিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই হলো দ্বীনের দাবি। দ্বীনকে বিতর্কমুক্ত রাখা একজন মুসলমানের ধর্মীয় দায়িত্ব। অহেতু বিতর্ক সৃষ্টি করা কোনো প্রকৃত মুসলমানের কাজ নয়।