সড়ক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

16

বিআরটিএকে আরও দক্ষ হতে হবে
নিরাপদ সড়কের দাবিতে যত আন্দোলন হয়েছে, যত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, যত সুপারিশ এসেছে, সম্ভবত জনস্বার্থ সম্পর্কিত আর কোনো বিষয় নিয়ে তা হয়নি। কিন্তু ফলাফল বলতে গেলে শূন্যই। সড়কে এখনো দেখা যায় লাইসেন্সহীন ও অদক্ষ চালকের নৈরাজ্য এবং ফিটনেসহীন গাড়ির ছড়াছড়ি। প্রতিদিন পত্রপত্রিকায় শিরোনাম হয় ‘সড়কে লাশের মিছিল’। চলতি মাসে ঈদুল আজহার সময়, অর্থাৎ ৬ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে সড়কে লাশ হয়েছে ২২৪ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। আহত হয়েছে এর চেয়েও অনেক বেশি। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-আমলাদের আশ্বাসের শেষ নেই। বছরের পর বছর এমন আশ্বাস শুনতে শুনতেই আমাদের অপেক্ষা করতে হয় সড়কে লাশ হওয়ার জন্য। কী নিদারুণ পরিহাস! সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মতে, সড়কে এমন নৈরাজ্যের প্রধান কারণ ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষেরই (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ১১৬টি গাড়ি বৈধ লাইসেন্স ছাড়া চালানো হচ্ছে। হিসাবের ভিত্তি হলো, গত জুলাই পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত হয়েছে ৪১ লাখ ছয় হাজার ৯৩৪টি গাড়ি। একই সময় পর্যন্ত লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৮টি। কিন্তু অনেক ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ও চালক উভয়ের লাইসেন্স আছে। সে হিসাবে আরো অনেক বেশি গাড়ি চলছে লাইসেন্সহীন চালক দিয়ে। ধারণা করা হয়, সেই সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মতে, ভারী যানবাহনের ৩৯ শতাংশই চলে লাইসেন্সহীন চালকদের দিয়ে। লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব বিআরটিএর। এখানে চলে চূড়ান্ত অনিয়ম। এটি ওপেন সিক্রেট যে দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে এখানে লাইসেন্স পাওয়া যায় না; বরং গাড়ি ঠিকমতো চালাতে না পারলেও শুধু ঘুষ দিয়ে এখান থেকে লাইসেন্স পাওয়া যায়। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৪টি এবং জেলাপর্যায়ে আরো প্রায় ছয় লাখ আবেদন জমা পড়ে আছে। বিভিন্ন জটিলতায় তাদের লাইসেন্স দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অধিকাংশ চালকের প্রশিক্ষণও হয় অন্য চালকের কাছ থেকে, কোনো প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে নয়। ফলে সড়কের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তাদের ধারণা কমই থাকে। সড়কে চলাচলকারী গাড়ির চালকদের লাইসেন্স ও নিয়ম-কানুন দেখার দায়িত্বে থাকে ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশ। সেখানেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বিস্তর। গাড়ির ফিটনেস নিয়েও চলছে একই খেলা। ঘুষের বিনিময়ে অনুপযুক্ত অনেক গাড়িও ফিটনেস পেয়ে যায় এমন অভিযোগ আছে। ফিটনেস সনদ ছাড়াও অনেক গাড়ি রাস্তায় চলে। তাহলে সড়কের নৈরাজ্য দূর হবে কিভাবে? আমরা চাই, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। সড়কে চলাচল নিরাপদ হোক। বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে সেই লক্ষ্যে কাজ করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।