সড়ক দুর্ঘটনায় ম্লান ঈদ উৎসব

72

দেশে এমন একটি দিন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে দিন সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটে না। দুই ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায় আতঙ্কজনকভাবে। ঈদের খুশির বদলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিষাদের পক্ষে নিমজ্জিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদের ছুটির ৪ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬ জন। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এ বছর যানবাহনের কাগজ তল্লাশি, মামলাসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও দুর্ঘটনা কমেনি বরং বেড়েছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটির ৪ দিনে নিহত হয়েছিলেন ৪৯ জন। অর্থাৎ এবার নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ জন। পরিসংখ্যান বলছে, ঈদের সময় সড়ক-মহাসড়কে অসচেতনতার কারণে পথচারীরা বেশি মারা যান। এ সময় একই সঙ্গে অনেক বেশিসংখ্যক যাত্রী ও গাড়ি সড়কে চলচল করায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। রাজধানী ও জেলা শহরের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা কম থাকে। চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ। এ ছাড়া বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো, মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন, আর ফিটনেসবিহীন যানও দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ি চালকদের বেপরোয়া মনোভাব এবং আনাড়িপনা অনেকাংশে দায়ী। এ দেশে যানবাহন চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ নয়, উৎকোচই নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। যেনতেন প্রকারে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেলে সাত খুনও মাফ হয়ে যায়। যানবাহন চালকদের শক্তিশালী ইউনিয়ন তথা মাফিয়াদের কাছে দেশের সরকার, আইন-বিচার ব্যবস্থা সবকিছু জিম্মি বললেও অত্যুক্তি হবে না। কোন সভ্য দেশে এমনটি অকল্পনীয় হলেও আমাদের দেশে তা ঘটছে। যানবাহন চালকদের ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে রাজনীতিকদের গাঁটছড়া এ অবস্থার সৃষ্টি করছে। সভ্য দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তোলার স্বার্থে সড়ক দুর্ঘটনার মচ্ছব থামাতে সরকারকে সংকল্পবদ্ধ মনোভাব দেখাতে হবে। দুর্ঘটনার রাশ টেনে ধরতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। সারা দেশে গাড়ির ড্রাইভারদের ব্যবহারিক, তাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন কোন চালক গাড়ি চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো যেন সড়কে চলতে না পারে এবং চালকরা যাতে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালান, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। মহাসড়কে অযান্ত্রিক ও স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দরকার।