সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই আহসান উল্লাহর মর্মান্তিক মৃত্যু

276

আরএএল নিশ্চিত হলেও ইন্সপেক্টর হওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও রেঞ্জ এপ্রুভাল লিস্ট-আরএএল সভা থেকে এসআই থেকে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ সংবাদ মুহূর্তে পরিণত হলো শোকে। আরএএল নিশ্চিত হয়েও শেষ প্রান্তে এসে লালিত স্বপ্ন নস্যাৎ করে দিল ঘাতক ট্রাক। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যশোর-বেনাপোল সড়কের নবীবনগরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসানউল্লাহ (৩৬)। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় স্ত্রীকে নিতে এসআই আহসানউল্লাহ ঝিকরগাছা উপজেলার নবীবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজ মোটরসাইকেলসহ অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়। যশোর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার কল্লোল কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, আহসানউল্লাহর স্ত্রী মাহাবুবা আক্তার নবীবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। স্কুলছুটি শেষে তাকে নেওয়ার জন্যই তিনি সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
আহসান উল্লাহর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের চর আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। তবে নাভারণে বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করতেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে পিএসআই হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। এর অনেক আগ থেকেই তার মধ্যে অদম্য ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল পুলিশ ইন্সপেক্টর হবার। তাই পূর্বের পেশা শিক্ষকতা ছেড়ে পুলিশে ভর্তি হন। সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার কারণে তাকে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছিল। গতকাল সোমবার দর্শনা কেরুজ ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত আরএএল সভায় রেঞ্জ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, যশোর জেলার পুলিশ সুপারসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পুলিশ সুপারদের উপস্থিতিতে তাকে রেঞ্জ এপ্রুভাল লিস্ট-আরএএল নিশ্চিত করা হয়। খবরটি তার কাছে পৌছায় দুর্ঘটনার কিছু আগে। ইচ্ছে ছিল স্ত্রীকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে ফেরার পথেই সুসংবাদটা দেবেন। কিন্তু তা আর হলো না ঘাতক ট্রাকের কারণে। এই আনন্দ সংবাদটিই মুহূর্তে শোকে পরিণত হলো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার লাশ নিজ গ্রামে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।