স্বাগত ২০১৭

160

dfgdr

সমীকরণ ডেস্ক: পূর্বাকাশে রক্তিম আভা ছড়িয়ে উঁকি দিয়েছে নতুন বছরের প্রথম সূর্য। নানা প্রাপ্তি আর ব্যর্থতার সাক্ষী হয়ে মহাকালের অতল গর্ভে বিদায় নিয়েছে ২০১৬ সাল। আজ নববর্ষ। শুরু হলো খ্রিস্টীয় ২০১৭ সালের পরিক্রমা। বিগত বছরের নানা ব্যর্থতার গ্লানি ভুল নতুন স্বপ্নে জীবন সাজানোর প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে গোটা জাতি। উন্নয়নের সিড়িতে দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে উম্মুখ দেশ গড়ার কারিগররা। তবে নতুন বছরে অর্থনীতি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও রাজনীতিতে আছে নানা শঙ্কা। বিশেষ করে দশম জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে বছরের শুরুতেই ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মুখোমুখি হতে পারে বিরোধী রাজনৈতিক শরিকরা। অথচ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতায় থমকে যেতে পারে অগ্রযাত্রা। তাই নতুন বছরের সবারই আকাঙ্ক্ষা- কাটুক রাজনীতির গুমোট, সচল হোক অর্থনীতির চাকা। বাড়ুক গণতন্ত্রের চর্চা, কেটে যাক সম্প্রদায়িক নির্যাতনের ষড়যন্ত্র ও জঙ্গি তৎপরতা। রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়ে বয়ে যায় রাষ্ট্রপতির সংলাপের সফলতার সুবাতাস। সুস্থ রাজনৈতিক পরিম-লে সমৃদ্ধ হোক বাংলাদেশ। চেতনায় জাগ্রত আবহমান সেই মাঙ্গলিক বোধ অতীতের জীর্ণতা অতিক্রান্ত দিন-মাস-পঞ্জির হিসাব থাক বিস্মৃতির কালগর্ভে; প্রত্যাশায় বুক বাঁধি নতুন দিনের সূর্যালোকে তবে উদ্ভাসন হোক সজীব-সবুজ নতুনতর সেই দিনের, যা মুছে দেবে অপ্রাপ্তির বেদনা; জাগাবে নতুন প্রত্যয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবার প্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবে যার উদ্ভাসন সেই স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্রে এাঁই তো স্বাভাবিক প্রত্যাশা। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কিংবা প্রত্যাশা-প্রাপ্তির যোগ-বিয়োগ কষতে গিয়ে সব সময় যে মন প্রসন্নতায় আলোকিত হয় এমন ত নয়; তবু যা পেয়েছি সেইটেই বড় করে দেখা। এবং সেখানটাতেই জীবনের গতি, সমাজের অগ্রসরতার চাকা ঘূর্ণায়মান। তাই যা পাইনি, তার হিসাব থাক, যা পেতে চাইছি নতুন বছরের কাছে সেই স্বপ্নটাই রঙিন হয়ে উঠুক আমাদের জীবনে। বাংলায় আমাদের একটি নিজস্ব বর্ষপঞ্জি রয়েছে। আমাদের কৃষিপ্রধান ষড়ঋতুর দেশে চাষাবাদ ও ঋতুপরিক্রমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই বছরের শুরু হয় বৈশাখে। সে অর্থে বাঙালিজীবনে নতুন বছর বরণের আমজনতার যে বিপুল উৎসব, তা পালিত হয় পহেলা বৈশাখেই। ওই বর্ষবরণ উৎসব পরিণত হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উপাদানে। আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রা নির্বাহের বহুমুখী কার্যক্রম কেবল দেশের গ-িতে সীমাবদ্ধ নয়। সে কারণেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিম-লে যোগাযোগ, আদান-প্রদানের নিমিত্তে একটি বৈশ্বিক দিনপঞ্জিকা অনুসরণ। তাই অন্যান্য দেশের মতো আমাদেও দেশেও গ্রেগরিয়ান বর্ষপরিক্রমা অনুসৃত হয়। প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার প্রয়োজনে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করায় বছর শেষে যেমন বিগত দিনগুলোর হিসাব-নিকাশ, ঘটনাপঞ্জির স্মরণে সালতামামির বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়, তেমনই নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনাও করতে হয়। যোগাযোগ মাধ্যমের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে সারা বিশ্ব এখন এক বিশাল অভিন্ন গ্রামে রূপান্তরিত। নানা দেশ ও জাতির সংস্কৃতির একটি মিথস্ক্রিয়ার প্রক্রিয়া ক্রমান্বয়েই প্রবল হয়ে উঠছে। ভালো কি মন্দ- সে প্রশ্ন ভিন্ন। তবে আমরাও এর প্রভাবমুক্ত নই। খ্রিস্টীয় বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর রাতে উল্লাস করার পশ্চিমা রীতির রেওয়াজ অধুনা আমাদের দেশেও নাগরিক পরিম-লে চালু হয়েছে। অনেক সময় এ উল্লাস মাত্রা ছাড়ানোরও নজির রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে করা হয় কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ- যা গত কয়েক বছরের মতো ছিল এবারও। নতুন বছরে প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুদৃশ্য কার্ড পাঠানোর রীতি বহু দিনের। সমপ্রতি মুঠোফোনের প্রচলন সুবিস্তৃত হওয়ায় দোকান থেকে কার্ড কিনে ডাকঘরে গিয়ে তা পাঠানোর প্রক্রিয়া এই ব্যতিব্যস্ততার যুগে অনেকের কাছেই ঝামেলাপূর্ণ মনে হয়। তাদের কাছে এর চেয়ে সহজ মুঠোফোনের বোতাম চেপে নববর্ষের খুদে বার্তা পাঠানো। বছরের শেষ দিন থেকে মুঠোফোন থেকে মুঠোফোনে এমন অসংখ্য খুদে বার্তা চালাচালি এখন জনপ্রিয়। নতুন বছরে দেশবাসীর বুকজুড়ে প্রত্যাশা- জঙ্গিবাদের সমূল উৎপাটন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি হ্রাসসহ অর্থনৈতিক দূরাবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অফুরন্ত শক্তি। নতুন বছরের সূর্যের আলো এসব প্রত্যাশা পূরণের নিয়ামক হয়ে উঠুক, জ্বলে উঠুক শুভবোধের আলো, মঙ্গল ও কল্যাণের আলো। আগামী দিনের প্রত্যাশা, নতুন বছরে যেন কাউকে লিখতে না হয় নেতিবাচক কোনো ঘটনা। সরকারের দলীয়করণ আর ব্যর্থতার দিকে কেউ যেন আঙুল তুলতে না পারে। কারো যেন মৃত্যু না হয় কোনো গুপ্তঘাতকের হাতে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ যেন গেয়ে যেতে পারে গণতন্ত্রের জয়গান।