সেনা হেফাজত থেকে সপরিবারে পালিয়েছে সন্ত্রাসী এহসানুল্লাহ

110

বিশ্ব প্রতিবেদন
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পাকিস্তানি কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলার নেপথ্যে থাকা তালেবান সন্ত্রাসী এহসানুল্লাহ এহসান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়েছে পাকিস্তানের জেল থেকে। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান। মালালা ইউসুফজাই ও পেশোয়ার আর্মি স্কুলে সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী তিনি। তাকে রাখা হয়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হেফাজতে। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে তার একটি অডিও রেকর্ড। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ শেয়ার করা হয়েছে। এতে এহসাননুল্লাহ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে থাকা তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১১ই জানুয়ারি পালিয়েছেন। এ খবর দিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা আইএএনএস বলেছে, এ খবরটি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানি সূত্রগুলো।তারা জানিয়েছে, একটি সেফ হাউজে রাখা হয়েছিল এহসানুল্লাহ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে। সেখান থেকে পালিয়েছেন তারা। এ বিষয়টি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানতে পারে ১২ই জানুয়ারি। এরপর শিগগিরই খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশে মোহাম্মদ উপজাতি অধ্যুষিত সাগিবালা গ্রাম ঘেরাও করে তল্লাশি করেছে পাকিস্তানের সেনারা। এ সময় তার পিতা শের মোহাম্মদ, ভাই শফিক এবং আঙ্কেল শের বাদশাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। ওদিকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরেকটি ভয়াবহ গ্রুপ জামায়াতুল আহরার নামের আরেকটি গ্রুপেরও মুখপাত্র এহসানুল্লাহ। পাকিস্তানে বেশ কতগুলো সন্ত্রাসী হামলার জন্য তিনি দায়ী। তার মাথার মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। ২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। তাতে তিনি জড়িত। মালালার মাথায় গুলি করেছিল তার অনুসরণকারী তালেবানরা। পরে মালালা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ২০১৪ সালে পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ১৩৪ জন ছাত্রছাত্রী ও ১৫ জন স্টাফ নিহত হন। এ হামলায় প্রধান অভিযুক্ত এহসানুল্লাহ। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য দায়ী করা হয় এহসানুল্লাহকে। ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন বিদেশী ৯ পর্যটক। এ ছাড়া ২০১৬ সালে লাহোর পার্কে ইস্টার সমাবেশে বোমা হামলা হয়। তাতে নিহত হন কমপক্ষে ৭৫ জন। আহত হন ৩০০। অবশেষে ২০১৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে রহস্যময় কারণে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর পর পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলকে তার সাক্ষাতকার নিতে অনুমতি দেয়া হয়। এ সময় তিনি দাবি করেন, ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর পক্ষে কাজ করছিলেন তিনি। ইসলামাবাদের সূত্র বলেছেন, তিন বছর নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার পর তার বিরুদ্ধে চার্জ শিট দেয়ার কথা ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর।