সুখের মূলে স্বাস্থ্য

27

স্বাস্থ্য ডেক্স :
শহুরে জীবনে সারাদিনের চাকরি-ব্যবসার ব্যস্ততায় শরীরের দিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায়। কিন্তু যা দিনকাল পড়েছে শরীর-স্বাস্থ্যের যতœ না নিলে রোগে ভুগে নাকাল অবস্থায় পড়তেই হবে। আর কে না জানে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তাই শহরে কি গ্রামে কিংবা দূর মফস্সলে—সবাইকেই ভাবতে হচ্ছে স্বাস্থ্য নিয়ে। ভাবতে হচ্ছে স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিয়ে। তাই, সকালের আদুরে ঘুম কাটিয়ে পড়িমরি করে সবাই পার্কে, রাস্তায় ছোটে হাঁটতে, ব্যায়াম করতে। স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে দিন দিন মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণের তো আর কমতি নেই। খাদ্যে ভেজাল, দুধে ভেজাল, ফলমূলে কীটনাশক—এসবের প্রভাব তো শরীরে পড়ছেই। এ সবকিছু থেকে রক্ষা পেতেই শরীরের ফিটনেস বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। স্বাস্থ্যসচেতনতা মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকে সুষম খাবার গ্রহণ, সঠিক সময়ে সঠিক খাবার, নিরাপদ পানীয়, নিয়মিত শরীরচর্চার মতো বিষয়গুলো। সামাজিক, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগতভাবে এই সচেতনতা অত্যাবশ্যক; কেননা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি প্রতিনিয়ত। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছি আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম। ত্রৈমাসিক স্বাস্থ্যপরিচর্যা বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘আমার স্বাস্থ্য’ সম্প্রতি রাজধানীতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মাঝে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক জরিপ চালায়। তাতে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত বলে মনে করেন প্রায় ৮১ শতাংশ। ৬৮ শতাংশ মানুষ নিয়মিত হাঁটেন। দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খান। ৬০ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে মাত্র এক দিন লাল মাংস খান। ৬৯ শতাংশ মানুষ রোজ পরিমাণমতোই ঘুমান। অর্থাৎ মোটামুটি আশানুরূপ পরিবর্তন বা সচেতনতা এসেছে মানুষের মধ্যে। তার পরও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অসুখে ভুগছে মানুষ। জরিপ থেকে জানা যায়, ৬১ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন এক বেলার খাবার ঘরের বাইরে খান। এক্ষেত্রে শিশুর সংখ্যাই বেশি। অথচ জরিপে ৭৭ শতাংশ বলছে, তারা তাদের শিশুর সুষম খাবারের ব্যাপারে সচেতন। জরিপে এটাও উঠে এসেছে যে, রাজধানীর ৯৫ শতাংশ মানুষই ভেজাল এবং জীবাণুযুক্ত খাবার খাচ্ছে। এই ঝুঁকি কমাতে যতটা সম্ভব বাইরের খোলা খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, বাচ্চাদের স্কুলের টিফিনের বিষয়ে অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। তা না হলে আজকের শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই ঘরে তৈরি খাবারে শিশুদের অভ্যস্ত করতে হবে।