সুইস ব্যাংকে টাকা

85

পাচার কি না খতিয়ে দেখুন
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ এ বছর আবার বেড়েছে। ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল চার হাজার ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এক হাজার ২৭৪ কোটি টাকা বেড়েছে। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বাড়ে। ২০১৭ সালে খানিকটা কমলেও এবার আবার বেড়েছে। এজাতীয় খবর প্রকাশের পর সাধারণভাবে ধারণা জন্মে, সব টাকাই বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। অর্থনীতি নিয়ে যাঁরা চিন্তাভাবনা করেন তাঁরা মনে করেন, দুটি কারণে এমন ধারণা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকে এখানে অর্থ রাখা নিরাপদ মনে করেন না। আবার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নেই। আবার ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে ৫৯১ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাচার হয়েছে। আর ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাচার হয়েছে ছয় হাজার ৩২৮ কোটি ডলার। সন্দেহ হওয়াটা তাই অস্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই অর্থের সবই যে অবৈধভাবে গেছে, তা বলা যাবে না। তবে কারো টাকা যদি সেখানে থাকে, সেটা নিয়ে এখানে তদন্ত হয়। আর তদন্তে কোনো তথ্য দরকার পড়লে এগমন্ট গ্রুপের সদস্য হিসেবে ওই দেশে চিঠি লেখা হয়। তখন তারা দেখে, কার কী আছে না আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তথ্য বলছে, গত বছর আমদানি ব্যয় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। অনেকের ধারণা, তার একটি অংশ পাচার হয়ে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে জমা হয়েছে। কাজেই এটা পাচার নাকি বৈধভাবেই জমা হয়েছে, তা জানা দরকার। আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অর্থপাচারের বিষয়টি তদারক করে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে কারা অর্থ জমা করেছে, নানাভাবে সেই তথ্য জানার চেষ্টা করেও জানতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ তথ্য জানতে হলে ব্যক্তির পুরো পরিচয় ধরে তথ্য চাইতে হয়। এ জন্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকাশিত আরেক খবরে বলা হচ্ছে, ভারত সরকারের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের এ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারত কী প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ড থেকে তথ্য নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।