সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে সীমান্তরক্ষীদের সজাগ দৃৃষ্টি রাখতে হবে

56

দর্শনা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার এইচ ই ইমরান
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনাস্থল বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার (দিল্লি) এইচ ই মুহাম্মদ ইমরান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা গেঁদে স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে গতকাল বিকেল চারটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরআগে জয়নগর-গেদে সীমান্তের শূন্য রেখায় পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, দর্শনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, বন্দর বাস্তবায়ন কমিটি, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স এবং দর্শনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তিনি দর্শনা বন্দরের সকল কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরে বিকেলে দর্শনা বন্দরে বিজিবি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসন, বন্দর বাস্তবায়ন কমিটি, চেম্বার অব কমার্স ও সুধীবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এসময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘দেশের স্থলবন্দরগুলো কী অবস্থায় আছে ও কী কী অবকাঠামোর প্রয়োজন আছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বপর্যায়ে ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমার এ সফরের মূল উদ্দেশ্য দেশের সকল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ নিম্নপর্যায়ের সমস্যগুলি নির্ণয় করে দু-দেশের সরকারের সাথে আলোচনা করে এর সমাধান করা। এখানকার ব্যবসায়ী যারা স্থলবন্দর বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের কথা আমি শুনেছি। সমন্বিতভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে উভয় দেশের সরকারের সাথে বসবো। এসময় সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, একটি হত্যাও কোনো দেশের যারা নীতিবান আছেন তারা আশা করেন না। এ সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে দু-দেশের মধ্যে একটি ঐক্যমত আছে। আশাকরি আগামীতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ সমস্যা নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সীমান্তে যাতে হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে, সে দিকে দুদেশের সীমান্তরক্ষীদের সজাগ দৃৃষ্টি রাখার কথাও বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কলকাতার মন্ত্রী বি এম জামাল হোসেন, কলকাতার প্রথম সচিব শামছুল আরিফ, নয়াদিল্লির কাউন্সিলর শাহেদ আজিম, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, বিজিবি ৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, ৬ বিজিবির উপপরিচালক মেজর নিস্তার আহম্মেদ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, দর্শনা শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার শাফায়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক, দর্শনা স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম লিটনসহ প্রমুখ। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের উদ্দেশ্যে দর্শনা সীমান্ত ত্যাগ ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার (দিল্লি) এইচ ই মুহাম্মদ ইমরান।