সিলেট, ফেনি ও বগুড়া থেকে নির্বাচন করবেন খালেদা

300

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে সিলেট, ফেনী ও বগুড়া থেকে নির্বাচন করবেন। দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সিদ্ধান্ত গত মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে দলের শীর্ষপর্যায়ের এক বৈঠকে গৃহীত হয়। ২০১৯সালে আগামী সাধারণ নির্বাচন হবার কথা এবং ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না তা এখনো দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে ওই নির্বাচনে বেগম জিয়া অন্তত ৩টি আসন থেকে লড়বেন এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে  ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ফলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪টি আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এখনো বলা হচ্ছে ২০১৯ সালের নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই দাবি আদায়ের সংগ্রাম করেছে। সর্বশেষ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সিলেট থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার বিষয়টি ওই এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এর আগের নির্বাচনগুলোতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলায় যে দল জয়লাভ করে সেই দলই ক্ষমতায় গিয়েছে বলে দেশের রাজনীতিতে বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ হয়ে আছে। তবে সিলেট বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল বলে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা কর্মীরা বলছেন। এর প্রধান কারণ অর্ন্তকলহ। তারা এও আশঙ্কা করছে দলাদলির কারণে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে সুবিধা করতে পারছে না। বিএনপির নেতারা আশা করছেন খালেদার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক শক্তিকে বৃদ্ধি করবে। ২০১৪ সালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দ্বিতীয়বারের মত সিলেট থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেট থেকে সর্বশেষ বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাইফুর রহমান মারা যাওয়ার পর অন্য কোনো বিএনপি নেতা সিলেটে রাজনৈতিকভাবে প্রভাববিস্তার বা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি। সিলেটে দুজন বিএনপি নেতার একজন হারিস চৌধুরী যিনি বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি গত ১০ বছর ধরে পলাতক রয়েছেন। আরেক বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার পর ২০১২ সাল থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।