সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা সাহিদুজ্জামান টরিক

891

সাহিদুজ্জামান টরিক এক আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, সোজাসাপ্টা কথা বলা সফল ব্যবসায়ীর নাম, আমাদের অঞ্চলের এক উজ্জ্বল আলোকপ্রভা। মূলত দেশ ও সমাজ গঠনে সমৃদ্ধ হৃদয় নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক আদর্শও তিনি, যার চেতনায় আমরা পাই সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক এক গল্পগাথা। আত্মপ্রত্যয়ী দৃঢ়চেতা এই মানুষটি অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছেন ব্যবসার প্রসার আর রেখেছেন সফলতার স্বাক্ষর।
নিজ জন্মস্থান চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের জন্য সর্বদা ভেবে চলেছেন সাহিদুজ্জামান টরিক। পিতা মৃত হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠিত সূচনালগ্নে ৪০০ বর্গফুট আধা পাকা একটি একাডেমিক ভবনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে যে ‘ পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা’র যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ সেটি তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী নিজ সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিকের হাতে রূপ নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা একাডেমিক ভবনে। যেখানে আজ প্রতি দিন প্রায় ৩০০ ছাত্রের তিন বেলা থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন এ মহানুভব আদর্শবান ব্যক্তিটি। এই ভবনে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও আবাসনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলামেলা, মনোরম পরিবেশে দৃশ্যমান এ মাদ্রাসাটির লাল সিরামিক ইট ও নান্দনিক ব্লকের গাঁথুনি নজর কাড়ছে সবার। এছাড়া তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরে ‘সাহিদ স্কয়ার’ নামে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি বহুতল ভবন গড়ে তুলেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর খরচের অভাবে মাদ্রাসার কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য সাহিদ স্কয়ারের সকল আয় মাদ্রাসা পরিচালনা কাজে ব্যয় করবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মহৎ হৃদয়ের এ সফল ব্যবসায়ী। তাঁর মৃত্যুর পর মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজের দুই ছেলেসন্তানকেও গড়ে তুলছেন তাঁরই মতো মানবিক আদর্শে।
মাদ্রাসার সার্বিক অবস্থা ও আগামী পরিকল্পনা নিয়ে আলহাজ্ব মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক গত শুক্রবার পাঁচতলা ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমার পিতা আলহাজ্ব মরহুম শামসুজ্জোহা বিশ্বাস ৪০০ বর্গফুট জায়গায় টিনের ঘর নির্মাণ করে এ মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু করেন। সেখানেই পাঠদান ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। এরপর থেকে তিনি প্রতিনিয়ত চোখের পানি ফেলে মহান রাব্বুল আল-আমিনের কাছে দোয়া করতেন এ প্রতিষ্ঠানটিকে কবুল করে নেয়ার জন্য। আল্লাহ আমার পিতার দোয়া কবুল করেছেন এবং উত্তরোত্তর সফলতা দিয়েছেন। আমার পিতা বলে গেছেন, এই মাদ্রাসা যেন কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে। এটি পরিচালনার জন্য একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় হোটেল সাহিদ প্যালেস এন্ড কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সেখানে থেকে আয়কৃত অর্থে এ মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আমি যখন থাকব না, তখন আমার দুই ছেলে খোঁজখবর রাখবে, এখানে আসবে, দেখাশোনা করবে।’
আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক নিজের পরিবার, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনদের যেমন খোঁজখবর রাখেন, তেমনি গরিব অসহায় ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে সাহায্য করে ইতিমধ্যে দানবীর নামে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি সবাইকে দিনের পথে দাওয়াতও দেন এই সফল ব্যবসায়ী। এনটিভিসহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং প্রথম আলো, যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর কর্মকা-, সফল হওয়ার গল্প ছেপে ও প্রচার করে এ দেশের তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে। আজ তিনি এ দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে হয়ে উঠেছেন এক রোল মডেল। গত বছর আমেরিকার মিয়ামী রাজ্যে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেছিলেন, সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তাঁর পরিশ্রম আর মেধা, বাকিটুকু প্রচেষ্টা।
বর্তমানে ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে সরকারি রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের সহায়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাজ করে যাচ্ছেন মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক। পথশিশু, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা ছাড়াও স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে আর্থিক সহযোগিতা ও নিজের কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে সহায়তা করেন তিনি। যেমন ঈদের দিন দুপুর একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার অসহায় ও দুস্থ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের নিজ হাতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করেন সাহিদুজ্জামান টরিক। ঈদের দিন ব্যতিক্রম এমন আয়োজনে খুশি সমাজের অসহায়, দুস্থ, অসচ্ছল ও ছিন্নমূল মানুষ। প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে তাদের জন্য দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা ছিল এ আয়োজনের সার্থকতা, যা তাদের ঈদের আনন্দকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বিডিচ্যাম-এর সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এ দেশের গর্ব সফল ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিক। একটি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, শক্তি হচ্ছে সততা, নিষ্ঠা, মনোবল ও অন্যকে না ঠকানোর প্রতিজ্ঞা। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে যে কেউ যেকোনো কাজে সফল হতে পারবেন।
স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত শীর্ষ এ ব্যবসায়ী নেতা সাহিদুজ্জামান টরিক ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনে নিজেকে ব্রত রেখেছেন। মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মা সাহিদা বেগমের কাছে বকা খান একটু-আধটু। মায়ের বকা শুনে শিশুর মতো চুপ থাকেন, যেটি কিনা এই সফল মানুষের ভালোই লাগে। যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখনো একমাত্র অভিভাবক মা সাহিদা বেগমের কাছে অনুমতি নেন আলহাজ্ব মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক।
একজন সফল মানুষের পেছনের গল্পটি সাধারণত থাকে আদর্শের। সাহিদুজ্জামান টরিকের গল্পটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আদর্শ আর মানবিকতার মিশেলে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত করেছেন সফলতার এক সমৃদ্ধ সোপান। যে সোপানের ওপর দাঁড়িয়ে সফল এ ব্যক্তিটি প্রতিনিয়ত হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মূলত মানুষের জন্য।

(তথ্য সূত্র:-বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য, টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সচিত্র প্রতিবেদন ও পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নেওয়া)