সালিস বিচারে মৎস্য ব্যবসায়ী সল্লুকে জরিমানা

34

আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের মাছ নিয়ে তুলকালাম, ৭ শ কেজি মাছ চুরি
আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের পাইকারি মৎস্য ব্যবসায়ী মেসার্স বিসমিল্লাহ ফিস সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ ওরফে সল্লুকে মাছ চুরির অপরাধে নগদ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় আন্দুলবাড়ীয়া বাজারস্থ হাটবাজার ইজারা পরিচালনা কমিটির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সালিশি বিচারের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিসি বিচারে সল্লুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ নগদ প্রদান করেন এবং অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মৎস্য ব্যবসায়ী সল্লু ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের পাইকারী মৎস্য ব্যবসায়ী মেসার্স আল্লার দান ফিস সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী রাজীব হোসেন বিশ্বাস সাতক্ষীরার পাইকারি মাছ বিক্রেতা সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করছেন। সাতক্ষীরার মাছ বিক্রেতা সেলিম নিয়মিতভাবে ১১ শ থেকে ১২ শ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের মেসার্স আল্লার দান ফিস সাপ্লাইয়ার্সে পাঠান। এ মাছ রাজীব হোসেন বিশ্বাস বাজারের পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ী মেসার্স বিসমিল্লাহ ফিস সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ সল্লুর মাধ্যমে বিক্রি করেন। মহাজনের প্রেরিত মাছ বিক্রি শেষে প্রায় প্রতিদিন ১ শ কেজির মতো মাছ ওজনে ফাঁকি দিয়ে কম দেখিয়ে চালানপত্র দাখিল করেন। প্রতিনিয়ত মাছ কম হওয়ায় রাজীব হোসেনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ভাগাভাগির টাকা নিয়ে আল্লার দান ফিস সাপ্লাইয়ার্সের হিসাব রক্ষক নাজমুল ইসলাম ও বিসমিল্লাহ ফিস সাপ্লাইয়ার্সের স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ সল্লু, হিসাবরক্ষক পারভেজ ও সল্লুর ছেলে আসাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এ মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাতে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে সংঘর্ষেরও সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত নিরসন করতে হাটবাজার ও ইজারা পরিচালনা কমিটির নিকট অভিযোগ দাখিল করা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে নেতৃবৃন্দ শালিস বিচারের আয়োজন করেন। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় সালিশ বিচারে অভিযুক্তরা ১০ দিনে প্রায় ৭ শত কেজি মাছ চুরি করেছে মর্মে স্বাক্ষ্য দেয়। পরে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ সল্লুকে নগদ ৪০ টাকা জরিমানা করা হয়। এবং জরিমানা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী রাজীব হোসেন বিশ্বাসকে দিয়ে দেওয়া হয়। বিচারে উপস্থিত ছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ডা. মীর মাসুদুল খালেক বুলু, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও হাটবাজার, ইজারা পরিচালনা কমিটির সদস্য মির্জা হাকিবুর রহমান লিটন, শেখ ফিরোজ আহাম্মেদ, এসএম আশরাফুজ্জামান টিপু, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোল্লা ফখরুল হাসান টুটুল, শেখ রেজা, মোল্লা মানিক, খান তারিক মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার সাদ আহমেদ ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মকলেচুর রহমান টজো প্রমুখ।