সার্ভার আপডেটে বিড়ম্বনা

25

জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন
মেহেরাব্বিন সানভী:
জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসছে। প্রয়োজন পড়ছে আগের থেকে অতিরিক্ত কয়েকটা কাগজপত্র। নতুন নিয়মে পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে লাগবে জন্মনিবন্ধন সনদও। সেই সঙ্গে পাঁচ বছরের অধিক বয়স হলে প্রয়োজন সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের প্রত্যয়ন সনদ। এতে করে কিছুটা বিড়ম্বনা মনে হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়মে একজন একাধিক জন্ম নিবন্ধন করতে বা ইচ্ছামত বয়স কমানো- বাড়ানোসহ সংশোধন করতে পারবে না। নতুন এই নিয়মে কয়েকটা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলেও, সেটি হবে একশ শতাংশ স্বচ্ছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধনের জন্য সার্ভার আপডেটের কাজ চলছে। যার ফলে প্রায় ১৫ দিন ধরে কাজে দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। এর মধ্যেই আবার নতুন সিস্টেমে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে অনলাইনে ফরম পূরণ করার সময় লাগছে নতুন নতুন কাগজপত্র। আগে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ড হলেও হতো। এখন দুটিই লাগছে। এমনকি সত্যায়িতকারী ইউপি সদস্য বা কাউন্সিলরেরও জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি নম্বর লাগছে। তবে এ ব্যাপারে নির্ধারিত কোনো পরিপত্র পাইনি ইউনিয়ন বা পৌরসভা ডিজিটাল সেন্টারগুলো। ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন সিস্টেমে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে এসব কাগজপত্রের খালিঘর পূরণ করতে হচ্ছে। কোনো একটি বাদ পড়লে, জন্ম নিবন্ধন নিচ্ছে না সার্ভার। তবে, অচিরেই পরিপত্রও হাতে পাবেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন উদ্যোক্তা।
এদিকে, নতুন সিস্টেমে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে লাগছে আগের চেয়ে অতিরিক্ত কাগজপত্র। অনলাইনে ফরমপূরণ করতে গেলেই নির্ধারিত ঘর পূরণ করতে হচ্ছে। যেখানে, বয়স ০ হতে ৪৫ দিন হলে- ইপিআই (টিকার) কার্ড, পিত-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড। বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি নম্বর। আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর। ফরমের সঙ্গে ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগছে। বয়স ৪৬ দিন হতে ৫ বছর হলে পিআই কার্ড (টিকার কার্ড) স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়নপত্র। পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড। বাসার হোর্ল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি নম্বর। আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর। ফরমের সাথে ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগছে। বয়স পাঁচ বছরের অধিক হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১ নম্বর কলামে স্বাক্ষরসহ সীলমোহর।
উল্লেখ্য, যাদের জন্ম ০১/০১/২০০১ বা এরপর সে ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। যাদের জন্ম ০১/০১/২০০১ এর পূর্বে সেই ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। যদি জন্ম ০১/০১/২০০১ এর পূর্বে এবং পিতামাতা মৃত্যু হলে মৃত্যু সনদপত্র বাধ্যতামূলক। যাদের জন্ম ০১/০১/২০০১ এরপরে তাদের পিতা-মাতা মৃত্যু হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ এরপর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ উভয় সনদ আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে। বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি দাখিলা। আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর। ফরমের সাথে ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। আবেদনের সাথে সংযুক্ত সকল ডকুমেন্টের সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ইউপি সদস্য/ ইউপি সদস্যা কতৃর্ক সত্যায়িত হতে হবে। আবেদনের সাথে সংযুক্ত সকল ডকুমেন্ট আবেদন জমা দেওয়ার সময় মূলকপি প্রদর্শন করতে হবে। এ সকল ডকুমেন্ট ছাড়া আবেদন কোনো প্রকার গ্রহণযোগ্য হবে না।
অপর দিকে ভোগান্তি প্রকাশ করে সোহেল রানা নামের এক সেবাপ্রার্থী বলেন, ‘ছেলের জন্ম নিবন্ধন করাতে এসে বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুরছি। আগের নিয়মে যেসব কাগজপত্র লাগত, সেগুলো পর্যাপ্ত ছিল। এখনকার নতুন নিয়মে অনেক বেশি কাগজপত্র লাগছে। আমার এনআইডি কার্ড আছে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন নেই। আসলে এনআইডি থাকলে সেটার তো অন্য কোথাও প্রয়োজনও পড়ে না। এখন আমার ও আমার স্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন কার্ডও প্রয়োজন। বিষয়টি বেশ ভোগান্তিকর।’
আরেকজন সেবাপ্রার্থী বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স সাত বছর। তার জন্ম নিবন্ধন করার জন্য যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন, তা অনেক বেশি। আবার এতো বোঝাশোনারও ব্যাপার আছে। যা আমি ঠিকমতো বুঝতেও পারছি না। বিশেষ করে ডাক্তারি সার্টিফিকেটের জন্য ছুটতে হয়েছে। ফরম উঠিয়ে পূরণ করে এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে দেখিয়ে আবার সেই ফরমে তাঁর সিলসহ স্বাক্ষর এনে জমা দিতে হচ্ছে। আমার এবং আমার স্ত্রীর এনআইডিসহ জন্ম নিবন্ধনও লাগছে। বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিপত্র আমরা এখনো পাইনি। তবে আশা করছি দ্রুতই হাতে পাব। নতুন সিস্টেমে কাজ চলায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে বেশ কয়েক দিন ধরে স্থবির রয়েছে। নতুন সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে বেশ কিছু অপশন আসছে। যেই অপশনে আগের চেয়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়ছে। এতে করে আমরা মনে করছি, প্রথম দিকে কিছুটা ভোগান্তি মনে হলেও, প্রক্রিয়াটিতে একশ শতাংশ স্বচ্ছতা থাকবে। একজন একের অধিক জন্ম নিবনন্ধন করতে পারবে না। বা ইচ্ছামতো বয়সসহ অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।’
দেশ সেরা ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের আল হেলাল জানান, ‘নতুন একটি সার্ভার কার্যক্রম চলমান থাকায় আপাতত প্রায় বন্ধ জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। তবে নতুন যে সিস্টেমটি আমরা পেতে যাচ্ছি, সেটি আরও বেশি উন্নত।’