সারা দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট

115

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরেপুরে বাস চলাচল বন্ধ : ভোগান্তি চরমে!
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশজুড়ে চলছে টান টান উত্তেজনা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের দেশব্যাপী লাগাতার আন্দোলন থেকে রেহাই পেতে সেই পুরনো কৌশলে সারা দেশজুড়ে অঘোষিত ধর্মঘটে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা। অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে আন্তঃজেলাসহ দূরপাল্লার সকল যাত্রী সাধারন। ঢাকামুখি ট্রেনগুলোতে নেই তিল ধরণের ঠাঁই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টা হিসেবে গতাকল অঘোষিতভাবে সারা দেশব্যাপি সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
জানা যায়, সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা লাগাতার আন্দোলনের পাল্টা হিসেবে গতকাল সারা দেশজুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা। কোন কর্মসূচি ঘোষণা করা না হলেও মালিকরা বলছেন সড়কে গাড়ি ভাংচুরের কারনে শ্রমিকরা গাড়ি চালাতে চাচ্ছেন না। আবার শ্রমিকরা বলছেন, নিরাপত্তার কারনে মালিক পক্ষ সড়কে বাস নামাতে নিষেধ করছেন। দু’পক্ষ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিলেও মূলত নতুন প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন ঠেকাতে সেই পুরনো কৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকে ধারনা করছেন। তবে শুক্রবার কিছু কিছু জেলাতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও গতকাল শনিবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ ধরণের পরিবহন ধর্মঘটের কারনে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। জেলা শহর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল না করায় দুর্ভোগটা আরো বেড়ে যায় এসকল যাত্রীদের। গতকাল শনিবার রাত ১১টার পর চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় তার বাস্তব চিত্র। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস চুয়াডাঙ্গাতে পৌছালে যাত্রী তুলতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক মিনিট বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় ট্রেনটিকে। যাত্রী উঠা শেষ হলে দেখা যায় ট্রেনের কামরাগুলোতে তিল ধরণের ঠাই নেই। এসময় ঢাকাতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক যাত্রী প্রথমে ট্রেনে দরজার ভীড় ঠেলে সামনে পৌছাতে না পারলে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। তাকে ট্রেন থেকে নামার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এভাবে এতো লং জার্নি করা সম্ভব না। এসময় তিনি আরো জানান ঢাকাতে তার একটা বেসরকারি চাকুরির পরীক্ষা আছে। ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গাতে এসে যে পরিমাণ যাত্রী তুলেছে তাতে সামনের দুই একটি স্টেশন পার হওয়ার পর ইচ্ছে থাকলেও ট্রেনটি দাড়াতে পারবে না। এতো পরিমাণ যাত্রীর চাপ? অনেকে ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া পার্শবর্তী জেলা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের অনেক যাত্রী ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা রেলষ্টেমনে এসেছেন। কেউ কেউ ট্রেনে চড়ে যেতে পেরেছেন আবার কেউ হতাশ হয়ে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী ট্রেন অথবা ঘরে ফেরার জন্য।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মেহেরপুরের সকল রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই মেহেরপুর কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা লোকাল রুট এবং ঢাকা বরিশাল খুলনা রুটের কোন যানবাহনই মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যায়নি। এক ধরনের অঘোষিত ধর্মঘটের কবলে পড়েছে সকল রুটের সাধারণ যাত্রীরা। মেহেরপুর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতাদের নির্দেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণেই যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মেহেরপুরের বেশিরভাগ শ্রমিকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য বিআরটিএ তে জমা দিলেও ২/৩ বছরের মধ্যে কোন লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। আবার নতুন লাইসেন্সের সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন হওয়া সত্বেও সেগুলিও পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে রাস্তায় ট্রাফিক ধরে জরিমানা আদায় বা মামলা ঠুকে দিচ্ছে। অপরদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। যার কারণে শ্রমিকরা গাড়ি চালাচ্ছে না।
মেহেরপুর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম রসুল বলেন, শ্রমিকরা হঠাৎ একক সিদ্ধান্তে গাড়ি বন্ধ করেছে মালিক পক্ষকে না জানিয়ে। কিন্তু মালিক এবং শ্রমিক পক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল কখনও গাড়ি বন্ধ করতে হলে যৌথ মতামতের ভিত্তিতেই করতে হবে। তারা কেন একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করল সেটি আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর আশু সমাধান হবে বলে আশা করছি।