সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত

33

কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে
দেশে করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ঘটছে। এরই মধ্যে শনাক্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অবশ্য আশার কথা এই যে মৃত্যুহার চীনের মৃত্যুর শতকরা চার ভাগের এক ভাগ। আবার শনাক্ত বিবেচনায় চিকিৎসকদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকও রয়েছেন। চিকিৎসকদের এত প্রাণহানি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কাও তৈরি করেছে। করোনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মারা গেছেন অনেক বিশিষ্টজন, পুলিশ, চিকিৎসক ও সাংবাদিক। ওদিকে করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়েছে। প্রকাশিত এসংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে করোনা বা অন্যান্য রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে ঘুরে মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। এ কারণে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আগত রোগীদের ফেরত না পাঠিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গত ১১ মে নির্দেশনা জারি করে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক সাধারণ রোগীদের করোনা সার্টিফিকেট ছাড়া ভর্তি নিচ্ছে না। সার্বিক বিবেচনায় বিষয়গুলো বিশ্লেষণের দাবি রাখে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে মাঠে আছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁরাই যখন আক্রান্ত হচ্ছেন তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়। বড় বড় চিকিৎসকের মৃত্যু সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করবেই। চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতাল সংক্রমিত হওয়ার কারণে, বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র যথাযথ মানের না হওয়ায় চিকিৎসকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর মান নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে। তবে আশাবাদী হওয়ার একটি দিক হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকরা সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগ দিচ্ছেন। রোগীর সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন। অন্যদিকে করোনার কারণে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক হাসপাতালেই রোগীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ থাকলেই এসব হাসপাতালে ঘুরেও অন্য রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না বলে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেক বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর মান নিয়ে চিকিৎসকদের যে অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যদিকে হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা আশা করব, সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।