সাত জাহান্নামের পরিচয়

830

ধর্ম ডেস্ক: মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, জাহান্নামের সাতটি দরজা (স্তর) আছে। প্রত্যেকটি দরজার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল নির্ধারিত হয়েছে (সূরা হিজর : ৪)। অর্থাৎ জাহান্নাম হচ্ছে পরলোকের এমন একটি বিশাল এলাকা যেখানে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারিত আছে। সেগুলোকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ১. নার তথা আগুন : আল্লাহ তায়ালা বলেন, সেটা আগুন (নার)। যারা কুফরি করে, আল্লাহ তাদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন (সূরা হজ : ৭২)। ২. জাহান্নাম তথা আগুনের গর্ত : আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ (সূরা নাবা : ২১)। ৩. জাহিম তথা প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন : আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায় (সূরা নাযিয়াত : ৩৬)। ৪. সায়ির তথা প্রজ্বলিত শিখা : আল্লাহ তায়ালা বলেন, একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল জ্বলন্ত আগুনে (সায়িরে) (সূরা শূরা : ৭)। ৫. সাকার তথা ঝলসানো আগুন : আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন (সাকার) কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না (সূরা মুদ্দাসসির : ২৭-২৮)। ৬. হুতামাহ তথা পিষ্টকারী : আল্লাহ তায়ালা বলেন, কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায় (সূরা হুমাজাহ : ৪)। ৭. হাবিয়া তথা অতল গহ্বর : আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার আবাস হবে হাবিয়া। আর তোমাকে কিসে জানাবে হাবিয়া কী?  তা প্রজ্বলিত আগুন (সূরা কারিয়াহ : ৮-১১)। কোথাও ‘নার’-এর পরিবর্তে ‘লাজা’ তথা লেলিহান অগ্নি শিখা এবং কোথাও ‘হাবিয়া’র পরিবর্তে ‘দারুল বাওয়ার’ তথা ধ্বংসের ঘর-এর উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা শাস্তি ভোগ করবে। কাফের, মুশরিক, ব্যভিচারী, সুদখোর, ঘুষখোর, দুঃশাসক, অন্যায়ভাবে হত্যাকারী, অত্যাচারীÑ সবার জন্যই ভিন্ন ভিন্ন স্তরে শাস্তি নির্দিষ্ট আছে। আবার প্রত্যেকটি স্তরের অনেক ঘাঁটি আছে। যথা : জাহান্নামিদের রক্ত-পুঁজ-ঘামের হ্রদ গাসসাক, মল-মূত্র জমা হওয়ার স্থান গিসলিন, তিনাতুল খাবাল কূপ, সাউদ পাহাড়, রিয়াকারী ও অহংকারী লোকদেরকে শাস্তির ঘাঁটি যুববুল হজন, ভয়ংকর জায়গা ‘গাই’। এগুলো জাহান্নামের ভিন্ন ভিন্ন অপরাধীদের ভয়ানক শাস্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্থান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।