সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রিতে আগ্রহী নয় কৃষকরা

65
অ্যাপস-এর জটিল প্রক্রিয়া, বাজার মূল্যের চেয়ে দাম কম : লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
একে তো অ্যাপস-এর জটিল প্রক্রিয়া, এরপর বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারের সংগ্রহমূল্য কম, তারপরও আছে ঘুষের বিড়ম্বনা। এসব কারণে বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী নন। ফলে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক, চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলে। সরকার চলতি আমন মৌসুমে ধানের সংগ্রহমূল্য কেজিতে ২৬ টাকা এবং চালের কেজিতে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারে ধানের কেজি ২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৭/২৮ টাকা এবং চাল কেজি ৩৫/৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে কৃষককে সরকারী গুদামে ধান-চাল নিয়ে যেতে পরিবহণ ভাড়া হিসেবে আরো ২/৩ টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও কৃষককে সরকারী গুদামে ধান-চাল দেয়ার সময় কেজি প্রতি ২/৩ টাকা খুষ দিতে হয়। ফলে কৃষকের কেজি প্রতি আরো ৪/৬ টাকা খরচ হয়। এক্ষত্রে কৃষক সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রি করলে সরকার র্নির্ধারিত ধানের মূল্যের চেয়ে ৪/৬ টাকা এবং চালের ক্ষেত্রে ৩/৪ টাকা কম পায়। এটা সরকারের কাছে কৃষকের ধান-চাল বিকি করতে অনাগ্রহের একটি বড় কারণ।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানান, বাজারের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দামে ধান-বিক্রি করতে পারছি। এছাড়া সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রি করতে হলে সরকার নির্ধারিত অ্যাপস-এ আবেদন করতে হয়। এ জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও অনেক কৃষকের পক্ষে সম্ভব নয়। একে তো কম দাম, অ্যাপস-এ জটিল প্রক্রিয়া, ফলে আমরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে যাব কেন? এদিকে সরকার চাল ক্রয় করে মিলারদের কাছে থেকে। মিলারদের কথা হচ্ছে বাজারে দাম বেশি, বেশি দামে কৃষকদের কাছ থেকে চাল কিনে কম দামে সরকারের কাছে চাল বিক্রি করার কোন কারণ নেই। সরকারের অবশ্যই আরও প্রায় ৪ টাকা করে চালের দাম বাড়াতে হবে।