সময়ের সমীকরণ অদম্য পথচলা

71

সম্পাদকের কথা
সময়! অপার সম্ভাবনা নিয়ে সব সময় বহমান। এই বহমান সময় আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্তিম গন্তব্যের দিকে; যা অনিশ্চিত। অনাগত অনিশ্চিত সময় আমাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় পূর্ণ করে। সময়ের স্রোতে আমরা প্রতিদিন ভেসে চলি। তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। সে সব সময় আমাদের মনের ঈশান কোনে ডাক দিয়ে যায়-কিছু একটা করো। প্রতিটি নতুন ভোরে আমরা নতুন নতুন ভাবে জন্মায়। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে নিজে বলি, আজ থেকে ভালো কিছু করব, আজ থেকে শুধু সাফাল্য থাকবে জীবনে, কোনো ব্যর্থতা থাকবে না। কিন্তু তা কি হয়? আমরা হয়তো নতুন দিনে নতুন নতুন ব্যর্থতার ঘূর্ণিপাকে ঢুকে যাই। আর মনে মনে ভাবি, অনাগত সময়ে এ দুঃসময় কেটে যাবে। আসলে সময় আমাদের সুখ-দুঃখ, হাঁসি-কান্না, সাফল্য-ব্যর্থতা, পাওয়া-না পাওয়ার দোলাচলে দোলায়। এটাই প্রবাহমান সময়, যা আমাদের অজানার দশ-দিগন্তে প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে। সময়ের আবর্তে আমরা কখনো সর্বোত্তম হয়ে উঠি। আবার কখনো কখনো অন্ধকারে ডুবে যাই, তখন মনে হয় জীবনে এই অন্ধকার আর বুঝি কাটবে না, আর হয়তো সোনালি সূর্যের দেখা পাব না। কিন্তু মানবজীবন সত্যিই বড় বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তি জীবনে বা জাতীয় জীবনে যখনই খারাপ সময় আসুক না কেন, তা ঠিকই কেটে যায়। সুড়ঙ্গের শেষে ঠিকই আলোর দেখা মেলে। এটাই সময়ের সমীকরণ। ভালো ও মন্দের মধ্যে হিসাবের সমীকরণটা সময় ঠিকই একসময় মিলিয়ে দেয়।
এখন অদ্ভুত এক সময় এসেছে আমাদের সামনে। ভীষণ কঠিন এক সময়। এই সময়ে সংবাদপত্র শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মহামারির এই দুষ্কালে এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সংবাদকর্মীরা ভয়ঙ্কর জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রতিদিন কাজ করে চলেছেন। লকডাউনের সময় সবাই যখন ঘরবন্দি, তখনো সংবাদকর্মীরা মাঠে ছিলেন। অদৃশ্য সংক্রমণের আশঙ্কা আছে জেনেও প্রতিদিন আমরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেছি। আতঙ্কের একেকটি দিন গিয়ে আরও ভয়ঙ্কর রূপে হাজির হয়েছে পরবর্তী দিন। কিন্তু সংবাদকর্মীরা দমেননি। দেশে করোনা যত চোখ রাঙিয়েছে, সংবাদকর্মীরা আরো সাহস দেখিয়েছেন।
সময়ের সমীকরণ! শুধু একটা পত্রিকার নাম, এমন ভাবনায় আমরা সীমাবদ্ধ নই। কারণ, সময়ের সমীকরণ একটি আবেগের নাম, একটি বড় চাওয়ার নাম। আমরা চুয়াডাঙ্গা ও এ জেলাকে ঘিরে থাকা আমাদের প্রতিবেশী জেলাগুলোর ভালোটি চায়। এই অঞ্চলের সমস্যা ও তার সমাধানের সূত্রের সমীকরণ আমরা মিলিয়ে দিতে চায়। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো মাঠপর্যায় থেকে তুলে এনে সবাইকে জানাতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি আমাদের সমস্যাগুলোকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে সেগুলোর সমাধানের পথ আমরা সহজেই বের করতে পারব। সমৃদ্ধির পথে আমাদের নবযাত্রা হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেগবান। সময়ের সমীকরণ একটি পরিবার। এখানে সম্পাদকমণ্ডলীর ভূমিকা পরিবারের অভিভাবকের মতো। মাঠপর্যায়ে আমাদের যেসব সংবাদকর্মী প্রতিদিন সংবাদের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলেছেন, রিলেই রেসারের মতো। আমার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের মাঠের সংবাদকর্মীদের আন্তরিক অভিবাদন জানায়। মাঠের সংবাদটিকে যাঁরা বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকের কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেন, সেসব কলম-কারিগর সহসম্পাদকদের প্রতি রইল অনন্ত ভালোবাসা।
আমাদের চলার পথে সময়ের সমীকরণ-এর মূল শক্তি হলো এর অগণিত পাঠক। প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনের পাঠকেরা প্রতিদিন আমাদের অনুপ্রাণিত করেন। আমাদের পাঠকেরাই আমাদের এত কম সময়ে এত দূরপথ নিয়ে এসেছেন। সময়ের সমীকরণ আজ যে অবস্থানে, তার সবটা কৃতিত্ব এর পাঠকের। তাঁদের মূল্যবান মতামত আমরা সব সময় সাদরে গ্রহণ করে সে মোতাবেক কাজ করার চেষ্টা করে থাকি, যা আমাদের সাফল্যের মূল রহস্য। প্রতিদিন সকালে পাঠকের কাছে প্রতিদিনের পত্রিকা তুলে দেওয়ার কাজটা যে কত কঠিন, তা এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাত্রই জানেন। প্রতিদিনের পত্রিকা মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি দিনই একদম আলাদা, অন্য যেকোনো দিন থেকে। সময়ের সমীকরণ পরিবারের প্রতিটি সদস্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকে সব সময়, যা আমার বুক গর্বে ভরে দেয়। আমরা নির্ভার থাকতে পারি সবার পেশাদার কর্ম-দক্ষতায়। সময়ের সমীকরণ পত্রিকাটি যাঁরা প্রতিদিন পাঠকের হাতে তুলে দেন, সেসব বিক্রয় প্রতিনিধি ও পত্রিকা সরবরাহকারী সহযোদ্ধাদের জানায় বুকভরা ভালোবাসা। আপনারাই সময়ের সমীকরণকে এত কম সময়ে পাঠকপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সময়ের সমীকরণ পরিবার করোনার শুরুর থেকেই ছিন্নমূল-অসহায় মানুষ ও পত্রিকার বিক্রয় প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা এ অঞ্চলের বিত্তবান ও পরোপকারী মনোভাব-সম্পন্ন সুহৃদ ব্যক্তিদের ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত অহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সবাই যদি একে অপরের খারাপ সময়ে সাহায্যের হাত বাড়াই, তাহলে সবাই মিলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি। পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সমীকরণ পরিবারের সব সদস্যদের আবারও আন্তরিক অভিবাদন জানাতে চাই। আপনাদের সবার চাওয়া ও প্রত্যাশা মোতাবেক আমরাই চুয়াডাঙ্গাতে প্রথম অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করতে পেরেছি। সময়ের সমীকরণ-এর অনলাইন ভার্সনের মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো আপনাদের সমনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি। এই অনলাইন ভার্সন আমাদের সঙ্গে পাঠকের ভার্চুয়াল যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমরা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পাঠকের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছি; যা আমাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
করোনার শুরুর কাল থেকে পত্রিকা বিক্রির সংখ্যা বেশ কমেছিল, তবে এখন তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। করোনার দুষ্কালের শুরু থেকেই সময়ের সমীকরণ পরিবার অদম্য সাহস ও সচেতনতায় সব ঝুঁকি মোকাবিলা করে পাঠকের কাছে পত্রিকা নিয়মিত পৌঁছে দিয়ে চলেছে। করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পাঠকের হাতে পত্রিকা নিয়মিত পৌঁছাবো বলেও আশা করছি। এই সংকটময় পরিবেশেও সময়ের সমীকরণ দায়িত্বশীল ও সৎ সাংবাদিকতা চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রেই এই চর্চা অব্যাহত থাকবে। সমীকরণ আপনাদের সাথে নিয়ে অনেক দূর এগোতে চায়। পাশে থাকুন প্রিয় পাঠক।