সমাজ পরিবর্তনে ইতির ভূমিকা অনুকরণীয়

102

চুয়াডাঙ্গা পৌর পরিষদের সংবর্ধনা সিক্ত তীরন্দাজ ইতি খাতুন
বিশেষ প্রতিবেদক:
এস এ গেমসে আর্চারিতে স্বর্ণজয়ী ইতি খাতুনের উচ্চশিক্ষার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু। তিনি বলেছেন, ‘সমাজ পরিবর্তনে ইতির ভূমিকা অনুকরণীয়। তবে অতীতকে ভুলে গেলে চলবে না। অতীতকে স্মরণ করেই তাঁর পথ চলতে হবে, যেতে হবে বহুদূর। চুয়াডাঙ্গাসহ বাংলাদেশের সম্মান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারে সেই কামনা করি। এ ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা পৌর পরিষদ সার্বিক সহযোগিতা করবে। আমরা ইতির উচ্চশিক্ষার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করব। আরী যারা ইতির মতো হতে চায়, তাদের যাবতীয় সহযোগিতার জন্য আমাদের দুয়ার খোলা থাকবে।’
তীরন্দাজ ইতি খাতুনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পৌর মেয়র জিপু চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় পৌরসভার হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে তীরন্দাজ ইতি খাতুনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তাঁর যাপিত জীবন, সাফল্য ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংবর্ধিত অতিথি ইতি খাতুন বলেন, ‘খেলাধুলার পাশপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার। আমি চেষ্টা করব, আমার এই সফলতা ধরে রাখতে। সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন আগামীতে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করতে পারি।’
ইতির শুরুর কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সোহেল আকরাম। বাংলাদেশে আর্চারিতে সফলতার শিখরে নিয়ে যেতে হাতে গোনা যে ৩-৪ জন কাজ করছেন, তাঁদের একজন তিনি। সোহেল আকরাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘২০১৬ সালের শেষের দিকে যখন আর্চারি ক্যাম্প শুরু হয়, তখন ইতি নিজে থেকেই আমার কাছে এসেছিল। এরপর যখন তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখনও সে আমাদের মাধ্যমে বিয়ের আসর ত্যাগ করে ক্যাম্পে যোগ দেয়। এ ক্ষেত্রে ইতির কঠিন সিদ্ধান্ত আর প্রবল ইচ্ছে শক্তিই এ সফলতার অন্যতম কারণ।’
এক বক্তব্যে বাংলাদেশ বেতারের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে ইতি খাতুনই প্রথম সর্বাধিক স্বর্ণজয়ী। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। সমাজ পরিবর্তনে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। ইতিকে অনুসরণ করে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আরও জোর প্রতিবাদ হোক। আগামীতে অলিম্পিকে কোয়ালিফাইয়ের মধ্য দিয়ে সফলতার আরেক ধাপ অতিক্রম করবে, এই কামনা করি।’
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন প্যানেল মেয়র মুন্সী রেজাউল করিম খোকন, পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, টিএলসিসি সদস্য অধ্যক্ষ মাহাবুল ইসলাম সেলিম, সাংবাদিক শাহ আলম সনি, আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সজিব দত্ত, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মাফিজুর রহমান মাফি প্রমুখ।
বক্তব্য পর্ব শেষে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতি খাতুনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতির পিতা ইবাদত আলী, মা আলিয়া বেগম, আত্মীয়-স্বজন, পৌরসভার সব কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন পৌরসভার উচ্চমান সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেন।
উল্লেখ্য, এসএ গেমস-এর আর্চারিতে স্বর্ণ জয় করা ইতি খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মুসলিম পাড়ার ইবাদত আলী ও আলিয়া বেগমের কন্যা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে আর্চারি প্রশিক্ষণে হাতে খড়ি লাভ করেন তিনি। এরপর নিজের মেধা, মনন আর নৈপুণ্য দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে অর্থ্যাৎ তীরন্দাজ সংসদ দলে। সম্প্রতি নেপালের পোখারায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমস এ দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জিতে লাল সবুজের পতাকাকে তুলে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। অলিম্পিয়ান রোমান সানার সঙ্গে জুটি বেঁধে রিকার্ভের দলগত ও মিশ্র দলগতের স্বর্ণ জয়সহ নারীদের রিকার্ভে এককের স্বর্ণও উঠেছে তাঁর গলায়। একক, দলগত এবং মিশ্র দ্বৈত মিলিয়ে ইতি খাতুনের অর্জন তিনটি স্বর্ণ মেডেল।