সমাজ উন্নয়নে ইমামদের করণীয়

13

ধর্ম ডেস্ক: একজন ইমামের মূল দায়িত্বই হচ্ছে যথাযথভাবে ইমামতি করা। সে একজন আমানতদার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু যেহেতু সে মুসল্লিদের দৃষ্টিতে আদর্শ, সেহেতু তাকে এই দায়িত্বকে মহান সুযোগ মনে করে তা সদ্ব্যবহার করা এবং তাকে এমন কিছু দ্বীনী ও সামাজিক কাজ সম্পন্নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিসহ মহল্লার লোকেরা যেন সঠিকভাবে দ্বীনের বিষয়ে কিছু সঠিক জ্ঞান জানতে পারে, ইসলামী আদর্শে আদর্শবান হতে পারে এবং সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে পারে। এ লক্ষ্যে ইমামরা সমাজ উন্নয়নে যেসব কাজ করতে পারেন তার কিছু নমুনা উল্লেখ করা হলো। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিত মুসল্লিদের সংখ্যা ও উপযুক্ত সময়ের দিকে খেয়াল রেখে দৈনিক কোনো এক ওয়াক্ত নামাজ শেষে সংক্ষিপ্ত ৮-১০ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ধর্মীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে সুন্দর হবে কোনো যোগ্য আলেমের বই ধারাবাহিকভাবে পাঠ করা। আর বিষয়ের ক্ষেত্রে ইমান-আকিদা, পাক-পবিত্রতা, নামাজের নিয়ম-পদ্ধতি, ইসলামী শিষ্টাচার, হালাল-হারামের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য দেয়া। সম্ভব হলে মৌসুম অনুযায়ী আলোচনার বিষয় পরিবর্তন করা। যেমন রমজান মাসে রোজার মাসায়েল, কোরবানি ও হজের সময় সে সব মাসায়েল, ফসলাদি কাটার সময় উশর-জাকাতের মাসায়েল। এছাড়াও মসজিদে কোরান শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে শিশুদের সঙ্গে সঙ্গে বড়দের জন্যও আলাদাভাবে ব্যবস্থা করা। মাঝে মধ্যে মসজিদে সকাল-সন্ধ্যা ও নামাজ শেষে পঠনীয় দোয়া ও জিকির শিখানোর ব্যবস্থা করা। নিজের সম্মান বজায় রেখে অন্যের পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসায় অংশ নেয়া। উপস্থিত মুসল্লিদের তাগাদা দিয়ে বাড়িতে মহিলাদের নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা। মহিলাদের জন্য পর্দা রক্ষা করে মাসিক বা পাক্ষিক ওয়াজ-নসিহত, দ্বীন শিক্ষা ও মাসয়ালা-মাসায়েল শিখানোর ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে ভালো আলেম এনে এলাকায় ব্যাপক আকারে দ্বীনি আলোচনার ব্যবস্থা করা।