সভাপতি-সম্পাদক মাদক মামলার আসামি

32

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড আ.লীগের কমিটি গঠন
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ কমিটি গঠনের পর সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবি, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আলোচিত কয়েকজন মাদককারবারি দলীয় পদ-পদবি নিয়েছেন। এ নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের বটতলা বাজারে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এ কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হয়। বেগমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ইউপি সদস্য কাছেদ আলীর সভাপতিত্বে কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবুল হোসেন লাবু, বাবলু মোল্লা, আব্দুল মালেক, ফারুক হোসেন, মিলন ও নুরুজ্জামান। কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে বেগমপুর ও নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ওই দিন আকন্দবাড়িয়া গ্রামের গাঙপাড়ার জান মোহাম্মদের ছেলে আব্দুস সবুরকে সভাপতি ও একই এলাকার মৃত বিশারতের ছেলে মিণ্টু মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সভাপতি আব্দুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক মিণ্টু মিয়াসহ কমিটির আরও কয়েকজনকে মাদককারবারি বলে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরা অভিযোগ তোলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সাধারণ নেতা-কর্মী এ প্রতিবেদককে জানান, বেগমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আব্দুস সবুর একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তাঁর স্ত্রী শোভারন ওরফে শোভা এলাকায় মাদকস¤্রাজ্ঞী হিসেবে অনেক আগেই পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁদের নামে বেশ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে। মাদকস¤্রাজ্ঞী হিসেবে খ্যাত শোভার ছেলে নাজিম হোসেন কিছু দিন আগে সীমান্তে ফেনসিডিলের চালান আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এ ছাড়া বেগমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সাধরণ সম্পাদক মিণ্টু মিয়া একজন আলোচিত মাদক কারবারি বলে সাধারণ নেতা-কর্মীরা জানান।
এ বিষয়ে নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ও কমিটি ঘোষণা-অনুমোদন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাবিবুর রহমান কাজলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁরা মাদক ব্যবসায়ী কি না, এটি আমার জানা নেই। কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আমার সিদ্ধান্তে কমিটির অনুমোদন হয়নি, উপস্থিত নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে নবগঠিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্দুস সবুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি চাষাবাদ করে খাই। ওয়ার্ডবাসী আমাকে ভালোবেসে এ পদে বসিয়েছেন। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করব।’
এ প্রসঙ্গে জানতে নবগঠিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিণ্টু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে সদর থানা-পুলিশ এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে। যার নম্বর জিআর-১৮৮/৭/১৯ মে ২০০৭, জিআর-৩৬/২৯ মার্চ ২০০৭, জিআর-১৮/২২ জুলাই ২০০৫, জিআর-৪৮/২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ও ২৬/২৪ মে ২০১৩। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক মিণ্টু মিয়ার বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।