সব রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের মুঠোয় : মির্জা ফখরুল

221

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে এখন রাজনীতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সব রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের মুঠোয়। তাদের যা খুশি তাই করছে। আর বিএনপিকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। অথচ এসব মামলার কোনও ভিত্তি নেই, সত্যতা নেই’। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিাআরইউ) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতীনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে মাওলানা মতীনের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘ভিশন ২০৩০’ একটি স্বপ্ন, একটি প্রস্তাব। এ নিয়ে আলোচনা হতে হবে। প্রয়োজনে এতে নতুন কিছুর সংযোজন হতে পারে। আবার কোনও বিষয় বাদও দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে আওয়ামী লীগ সরাসরি এটাকে বাতিল করে দিয়েছে। তারা অনুকরণের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ যেকোনও বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা মেনে নিতে বিএনপি সবসময় প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মানসিকতা দেশে এখনও তৈরি হয়নি মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বার বার বলে আসছেন, আসুন আমরা আলাপ-আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা চায় না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা বাতিল করে দিয়েছে। পরে তারা যে কমিশন গঠন করেছে, সেটাতেই প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে নির্বাচন করতে চায়। অথচ দেশে নির্বাচন করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে। এমন নির্বাচন দিতে হবে যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবাই জানে, কী ভয়াবহ অবস্থা ছিল তখন। তবে ওই সময় একটা প্রতিরোধ ছিল। নিরব প্রতিরোধ ছিল, একইসঙ্গে সরব প্রতিরোধও ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে আমরা এখন রাজপথে সেভাবে নেমে পড়তে পারি না। তবে আমাদেরকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমূখ।