সব আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে

18

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিপদের বন্ধু। কারণ তিনি মহাপ্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যাদের লোকেরা বলল, ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটেছে। তাদের ভয় করো।’ তা শুনে তাদের ইমান আরো বেড়ে গেছে এবং তারা জবাবে বলেছে, ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো তত্ত্বাবধায়ক।’ (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১৭৩) এ তো আল্লাহ তোমাদের রব! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। সব কিছুর তিনিই ¯্রষ্টা। কাজেই তাঁর দাসত্ব করো। তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (সূরা আনয়াম: আয়াত ১০২)। কিছু কিছু মূর্খ মানুষ সেই প্রকৃত দাতা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন মানুষের দরবারে সন্তান কামনা করে থাকে। এ ধরনের আচরণ সুস্পষ্ট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সন্তান দেয়ার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আল্লাহর নবী হজরত ইবরাহিম (আ.) শেষ বয়সে এসে আল্লাহর কাছে বলেছেন, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্রসন্তান দান করো। (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।’ আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের শিরকি কর্মকা- সংঘটিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পীর পূজা, মাজার পূজা। মাজারে গিয়ে কবরবাসীর কাছে কিছু কামনা করা। কবরবাসী কিংবা জীবিত কোনো পীরের উদ্দেশ্যে সিজদা করা। তাদের নামে জিকির করা। মৃতব্যক্তি কবরে শুয়ে মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং ইহজগতের বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলে বিশ্বাস করা। কবরবাসীর নামে মান্নত করা। জীবিত পীর বা মাজারের নামে কোরবানি করা। কোনো পীর, ফকির, দরবেশকে বিপদ প্রতিহত করতে সক্ষম কিংবা কোনো কল্যাণ এনে দিতে সক্ষম বলে মনে করা। তাদের আল্লাহর রহমত বণ্টনের অধিকারী মনে করা ইত্যাদি শিরকি কর্মকা-। ইমান বাঁচাতে হলে এসব কর্মকা- থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে। এগুলো এমন পর্যায়ের শিরক, যা একজন মুমিন মুসলমানকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। তওবা না করে মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে অবস্থান করবে। তাই আমাদের প্রত্যেককে অজ্ঞতা ও মূর্খতার বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন ব্যক্তি দুনিয়ায় জীবনযাপনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বস্তুগত বা অবস্তুগত যত কিছুর অভাব বা প্রয়োজন হয়, এসবেরই প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।