সফল খামারির গল্প

40

চাকরি ছেড়ে হাঁসের খামার, স্বাবলম্বী তিতুদহের রাজু
প্রতিবেদক, হিজলগাড়ি:
চাকরির পেছনে না ছুটে বা বিদেশে না যেয়ে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে নিজ উদ্যোগে হাঁসের খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের হাঁসের সফল খামারি রাজু আহম্মেদ। মাত্র ৯৯ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে খামার শুরু করে বর্তমানে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালিক তিনি। তাঁর এ সাফল্য দেখে এলাকার অনেক যুবকই এখন হাঁসের খামার গড়ার জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে রাজুর কাছে আসেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে বর্তমান যুবক সমাজকে বিভিন্ন ধরনের কৃষি ও গবাদিপশুর খামার গড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের তফিল উদ্দিনের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রাজু আহম্মেদ একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিন বছর আগে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজ বাড়িতে ৯৯ হাজার টাকা নিয়ে গড়ে তোলেন একটি হাসের খামার। প্রথম পর্যায়ে ৩০০টি হাঁস নিয়ে খামার গড়ে তুলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাফল্য পান তিনি। বর্তমানে তাঁর খামারে হাঁসের সংখ্যা ১ হাজার ৬ শ। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ৯০০টি ডিম পান তিনি। হাসের খাবার, ওষুধসহ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তাঁর আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। রাজুর হাঁসের খামার দেখাশোনার জন্য বতর্মানে দুজন কর্মচারী কাজ করছেন। রাজু প্রথমে বাইরের বিভিন্ন খামার থেকে হাঁস কিনে নিজের খামার শুরু করলেও বর্তমানে তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। খামারে হাঁস পালনের পাশাপাশি তিনি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরে মাছের জন্য আলাদা খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। হাঁসের বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খামারি রাজু জানান, যদি বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে হাঁস চরানোর জন্য জায়গা পাওয়া যায়। ফলে হাঁসের কোনো কেনা খাবার খেতে দিতে হয় না। আর তখন হাসের ডিম বিক্রি করে যা পাওয়া যায়, সবই লাভ হয়। বেকার যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে, সবাই চাকরির পেছনে ছুটছেন। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে স্বল্পপুঁিজতে বিভিন্ন ধরনের খামার গড়ে তুলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।’