সন্ধ্যারাতে মোটরসাইকেল থামিয়ে ছিনতাই!

35

চুয়াডাঙ্গার নিমতলা-কাথুলী সড়কে মুখ বাঁধা হাফপ্যান্ট বাহিনীর হানা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নিমতলা-কাথুলী সড়কে সন্ধ্যারাতে মোটরসাইকেল থামিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর কাথুলী মাঠের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাথুলী গ্রামের মাঝেরপাড়ার হুমায়ন আলীর ছেলে পলাশ আলী (২৮), একই গ্রামের বারেক আলীর ছেলে একরামুল (৩২), সাইদুরের ছেলে জুনায়েদ (৩০) ও মকসেদ আলীর ছেলে রাহান আলী (২৮) গতকাল সন্ধ্যায় নিমতলা থেকে চায়ের আড্ডা শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কাথুলী-নিমতলার মাঝামাঝি পৌঁছালে রাস্তার ওপর পাটের কয়েকটি আঁটি দেখতে পান তাঁরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা মোটরসাইকেল পেছনে ঘুরতে গেলে হাফপ্যান্ট পরা কয়েকজন ব্যক্তি মোটারসাইকেল থামিয়ে তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় পলাশের নিকট থাকা নগদ ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় একরামুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে পালিয়ে গ্রামের ভেতরে ঢুকে ছিনতাইয়ের বিষয়টি গ্রামবাসীদের জানালে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কাথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক পলাশ আলী জানান, ‘নিমতলা থেকে চারজন চা-পান শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় আমরা কাথুলী-নিমতলার মাঝামাঝি আমলগীরের বাড়ির অদূরে পৌঁছালে হাফপ্যান্ট পরা মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে এবং আমার নিকট থাকা নগদ ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আর বাকিদের নিকট দুই-এক শ টাকা থাকায় তারা তা নেয়নি। এমনকি আমাদের মোবাইল ফোনও তারা নেয়নি। গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে চলে এলে তারা পালিয়ে যায়।’
এদিকে, ঘটনাস্থলের মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে নিমতলার মাঠে সদর থানার পুলিশের একটি দল অবস্থান করছিল বলে জানায় গ্রামবাসী। ওখানে অবস্থান করা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসএই) রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ডিউটিতে ছিলাম। ঘটনা শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, তাঁদের কাছে দুটি মোটরসাইকেল এবং চারজনের নিকটই স্মার্টফোন ও টাকা ছিল। চারজনের মধ্যে একজনের নিকট থেকে কিছু নগদ টাকা নিয়েছে, বাকিদের নিকট থেকে কোনো কিছুই নেয়নি তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এটা পরিকল্পিত পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। কারণ, চারজনের মধ্যে শুধু পলাশের নিকট থেকে নগদ ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে, অন্যদের নিকট টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল থাকা সত্ত্বেও নেইনি তারা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’