সদাচরণ

50

ধর্ম প্রতিবেদন
ইসলাম প্রতিবেশীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে। নিজেকে মুমিন হিসেবে দাবি করতে হলে প্রতিবেশীদের আস্থা অর্জনের বিকল্প নেই। প্রতিবেশীরা ভীতসন্ত্রস্ত থাকলে কেউ নিজেকে যে মুমিন বলে দাবি করতে পারবে না সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়।’ সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ, কে মুমিন নয়? তিনি বলেন, যার দুষ্টামি থেকে প্রতিবেশী শঙ্কাহীন নয়। মুসলিম।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী বাড়ির চারদিকের ৪০ বাড়ির সবাই প্রতিবেশীর অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের সদস্যদের পর তাদের সঙ্গে আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ বেশি হয়। বিপদে-আপদে এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীর সহায় হওয়াকে ইসলাম কর্তব্য বলে নির্ধারণ করেছে। প্রতিবেশীর দুঃখ-কষ্টে সমব্যথী হওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে। ধনী প্রতিবেশীর কর্তব্য গরিব প্রতিবেশীর কেউ বিপদগ্রস্ত হলে তাকে সাহায্য করা, অভাবী হলে খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে নিজে পেট পুরে আহার করে, সে প্রকৃত মুসলমান নয়।’ মানুষ মাত্রই সবাই সমান নয়। প্রতিবেশী বদরাগি যদি হয় তবে সে ক্ষেত্রেও পাল্টা আচরণ না করে সবর করতে হবে। ভালো আচরণের মাধ্যমে তার আস্থা অর্জনে যত্নবান হতে হবে। প্রতিবেশী যেন আমাদের কোনো ধরনের আচরণে কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিবেশীর বাড়ির পাশে কিংবা রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলাও এর অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে আছে : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন- এক ব্যক্তি আরজ করল, ইয়া রসুলুল্লাহ অমুক মহিলা এমন যে, তার অধিক নামাজ, রোজা, সদকার কথা মানুষের মুখে মুখে আলোচিত। কিন্তু সে আপন প্রতিবেশীদের মুখ দিয়ে কষ্ট দেয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে দোজখে যাবে। এরপর লোকটি আরজ করল, ইয়া রসুলুল্লাহ অমুক মহিলা সম্পর্কে মানুষ বলাবলি করে যে, সে নাকি নফল রোজা, নফল সদকা ও নফল নামাজ কমই আদায় করে এবং পনিরের সামান্য খণ্ড দান করে। কিন্তু মুখে প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয় না। এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে জান্নাতে যাবে। আহমাদ, বায়হাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রতিবেশীদের হক আদায় করার তওফিক দান করুন। আমিন।