সত্যের সন্ধানে

214

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সুরাতুল হজ্জ : ১০৭) তাফসিরে ইবনে আসাকিরে রয়েছে রসুল (সা.) বলেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রহমত। তাফসিরে ইবনে কাসিরে রয়েছে রসুল (সা.) বলেন, আমি আল্লহর প্রেরিত রহমত, যাতে (আল্লাহর আদেশ পালনকারী) এক সম্প্রদায়কে গৌরবের উচ্চাসনে আসীন করি এবং (আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী) অপর সম্প্রদায়কে আল্লাহর আজাবের কথা শুনাই। বস্তুত সৃষ্টিগতভাবে মহান রাব্বুল আলামিন যাদেরকে দান করেছেন রহমত ও সত্য সন্ধানের প্রবল স্পৃহা, শত বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে যারা পেয়েছিলেন রহমত ও আলোর পথের দিশা, সেই তাওহিদের পিয়াসী সত্যের সন্ধানী অসংখ্য অগণিত সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন পারস্য দেশের ইসফাহান নগরের নিকটস্থ এক গ্রামের জনৈক অগ্নিপূজারী বাসিন্দার নয়নমণি। পিতা যেহেতু আগুনের পূজা করত তাই ছেলেকে আগুন জ্বালানোরা কাজে নিয়োজিত করে নিজের কাছে আবদ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু সত্যসন্ধানী সালমানের মনে ইবাদতের তৃপ্তি কোনোভাবেই আসছিল না। সঠিক পথের দীক্ষা পাওয়ার জন্য দেশ থেকে দেশান্তরে পাগলের মতো ঘুরছিলেন। চষে বেড়ালেন মোসেল, নাছীবাইন, আমুরিয়াসহ প্রমুখ দেশসমূহে। অনেক খ্রিস্টান আলেমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করলেন। পরিশেষে আমুরিয়া নামক এলাকার এক আলেম উনাকে উপদেশ দিলেন যে আরব দেশে দীনে ইব্রাহিমের অনুসারী এক নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তুমি যদি সত্যের সঠিক সন্ধান পেতে চাও অবশ্যই তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করে তাঁর থেকে সঠিক পথের শিক্ষা লাভ করবে। তিনিই হবেন শেষ নবী ও শ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর পরিচয় চারটি নিদর্শন দ্বারা তুমি জানতে পারবে। এক. নবুয়্যত প্রাপ্তির পর তিনি যে শহরে হিজরত করবেন সে শহরে অনেক বেশি খেজুর গাছ হবে। দুই. ছদকার (যাকাতের) মাল তিনি নিজের জন্য গ্রহণ করবেন না। তিন. হাদিয়ার মাল গ্রহণ করবেন। চার. তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়তের সীলমোহর থাকবে। এ কথাগুলো শ্রবণে সালমানের মনে আশার আলো উদিত হলো। মনে-প্রাণে প্লান করলেন কীভাবে পাওয়া যায় সেই রহমতের নবীকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এক বণিক দলের সঙ্গে রহমতের নবীর তালাশে বের হয়ে গেলেন আরব দেশের উদ্দেশ্যে। সমূহ বিপদাপদ পাড়ি দিয়ে মদিনার নিকটবর্তী স্থান ওয়াদিউল কুরা নামক এলাকায় এসে পৌঁছলেন। কিন্তু বণিক দল নিজেদের দাস বলে মদিনার এক ইয়াহুদির নিকট তাকে বিক্রি করে দিল। এখানে খেজুর গাছের আধিক্য দেখে তাঁর বিশ্বাস জমলো যে, আখেরি নবী এদেশেই হিজরত করে আগমন করবেন।